এমপি কমলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের সংগঠিত করার অভিযোগ করলেন কাবেরী

বার্তা পরিবেশক::
রামু সদরের এম.পি’র কক্সবাজার সংগঠিত হচ্ছে বিভিন্ন অপরাধ প্রক্রিয়া ঘর দখল, ভূমি দখল, এবার খাল দখল। রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের নন্দাখালি ওয়ার্ডের সূইচ গেইট বন্ধ করার ফলে গত এক বছর ধরে লবণ পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে শত শত একর সাধারণ মানুষের কৃষি জমি। যার ফলে কৃষি কাজ ও মাছ ধরতে না পেরে নন্দাখালির মানুষ অর্ধ আহারে ও অনাহারে দিনাতিপত করছে। অবৈধভাবে সূইচ গেইট বন্ধ রাখার ফলে যে সব ভূমিতে লবণাক্ত পানি জমাট হয়েছে, সেই সব ভূমিতে আগামী পাঁচ দশ বছরে কোন ধরণের ফসল উৎপাদন হবে না বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। সূইচ গেইট বন্ধ করার ফলে মসজিদের ও এলাকাবাসীর পুকুরে লবণাক্ত জলে পূর্ণ হওয়াতে পুকুরের জল ব্যবহার থেকে বঞ্চিত এলাকার মসজিদের মুসল্লিরা জানিয়েছেন এক বছর ধরে নামাজের ওজু করার পানি থেকেও বঞ্চিত। গ্রামবাসীরা উক্ত খালে মাছ ধরতে গেলে সন্ত্রাসীরা অবৈধ অস্ত্র, দা, লাঠি, কিরিচ দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে মাছ ধরা ও কৃষি উৎপাদন থেকে বঞ্চিত করেন। ফলে সাধারণ গ্রাম বাসীরা কৃষি ও মাছ ধরে জীবন করে তারা সবাই এখন কৃষি উৎপাদন ও মাছ ধরা থেকে বঞ্চিত হয়ে বেকার জীবন যাপন করছে।
গত এক বছর ধরে নন্দাখালীর অসহায় গ্রামবাসী রামু সদরের এম.পি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, এলাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, রামু থানা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে বিচার প্রার্থী হয়ে ও বিচার না পেয়ে ব্যর্থরথে ফিরে এসেছেন। এমতাবস্থায় জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনীন সরওয়ার কাবেরী অসহায় নির্যাতিত মানুষের পক্ষে দাঁড়িয়ে সরকারী সুইচ গেইট জন স্বার্থে খুলে দেন। এবং হাজার হাজার নির্যাতিত মানুষকে সাথে নিয়ে ভূমি দস্যু কর্তৃক অবৈধ ভাবে নির্মীত আক্রান্ত খালের কয়েকটি বাঁধ কাটেন। উক্ত বাঁধ কেটে সরকারী খাল অবমুক্ত করার সময় নাজনিন সরওয়ার কাবেরী সহ অসহায় মানুষের উপর চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা দা, ছুরি অগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝঁপিয়ে পড়েন। এই বিশাল সংঘর্ষে অনেক অসহায় মানুষ আহত হয়। এই ঘটনার পর রামু সদরের এমপি রামু থানার পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সাথে নিয়ে ঘটনা পরির্দশন করতে গিয়ে সন্ত্রাসী ও ভূমি দস্যুদের পক্ষে হয়ে পুন: রায় বাঁধ নির্মাণ করে খাল দখলের সুযোগ করে দেন। এবং এমপি সাহেব পুলিশকে সাধারণ অসহায় মানুষের হয়রানী করার নির্দেশ দেন। গ্রামের অসহায় মানুষের পক্ষে নাজনীন সরওয়ার কাবেরীসহ যারা কাজ করেছেন তাদেরকে হত্যা করে বস্তা বন্দি করে গুম করতে সন্ত্রাসীদেরকে জনসম্মুখে উম্মুক্ত নির্দেশনা দেন। ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বেলাল ও তৃণমূল নেতাকর্মীরা অসহায় হয়ে বলেন এমপি সাহেবের নির্দেশে যে কোন সময় আমাদের হত্যা করা হবে। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রাণ ভিক্ষা চাই। জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনীন সরওয়ার কাবেরীর নেতৃত্বে নন্দাখালীর গ্রামবাসীর হাজারো মানুষের পক্ষে খালের অবৈধ বাঁধ অবমুক্ত করার জন্য মাননীয় জেলা প্রশাসকের কাছে আজ “স্বারকলিপি” প্রদান করেন। এই প্রসঙ্গে কাবেরী বলেন এমপি কমলের ছত্র ছায়ায় উক্ত খাল দখলের নৈরাজ্য করে আসছে হাবিবুর রহমান, ইসলাম মেম্বার, দিদারুল আলম, কাসেম আলী, জয়নাল, জাফর, নজরুল হুদা, আব্দুল হাকিম, মাহামুদ করিম, নুর আহমদ, জাফর আলম, তুষার, আনোমিয়া, সাইফুল ইসলামসহ প্রমুখ।
উক্ত চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা ইয়াবা সহ বিভিন্ন মামলার এক একজন ১০/১৫টি করে আসামী। রামু কক্সবাজারের বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড যেমন হত্যা, মাদক ব্যবসা, হাইজ্যাক, ঘর দখল, ভূমি দখল, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন যারা করছে তাদেরকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ছত্র ছায়া দিচ্ছেন। এই নৈরাজ্যের ফলে সাধারন মানুষ নির্যাতিত ও অসহায় জিম্মি হয়ে আছেন। বিভিন্ন হত্যার চার্জশীট বিঘিœত হচ্ছে এমপি সাহেবের হস্তক্ষেপে। এমপি সাহেবের আশ্রয়ে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অর্থ আতœসাত হচ্ছে। সদর হাসপাতাল, রামু হাসপাতাল ব্যাপক দুর্নীতি হচ্ছে। অন্যায় কাজে প্রশাসন পুলিশ বাহিনীকে তিনি প্রভাবিত করেন। সরকার দলের এমপি ও আমার ভাই বলে অনেক সময় মুখ খুলিনি, কিন্তু যতই বাঁধা আসুক না কেন বরাবরের মত অন্যায়ের বিরুদ্ধে থেকে অসহায় মানুষের পক্ষে বঙ্গবন্ধুর শোষন মুক্ত সমাজ গঠনে অবিচল থাকব। যেভাবে অপশক্তির বিরুদ্ধে ভারুয়াখালী লবনের মাঠে গুচ্ছগ্রাম করার পরিকল্পনাকে ভেস্তে দিয়ে লবণ চাষীদের মুখে হাসি ফুটিয়ে ছিলাম, যেভাবে ভূমিদস্যুর হাত থেকে কক্সবাজার কলেজের মাঠ দখলের বিরুদ্ধে অনড় থেকে মাঠ রক্ষা করেছিলাম। যেভাবে মিঠাছড়িতে কৃষকের স্থানীয় চেয়ারম্যান কর্তৃক অবৈধ ভাবে আক্রান্ত ফসল কেটে কৃষকের মুখে হাসি ফুটিয়েছিলাম। সেভাবেই নন্দাখালী সংলগ্ন দখলকৃত খাল অবমুক্ত করবো ইনশাহ আল্লাহ।

Leave a Reply

%d bloggers like this: