এরশাদ লাইফ সাপোর্টে

শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। তাকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউতে)রাখা হয়েছিল।
জাতীয় পার্টির সূত্রগুলো বলছে, রবিবার দুপুর থেকে সাবেক সেনা শাসকের শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি ঘটে। এরপর তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা নেয়া হয়। যদিও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য আসেনি। জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে।
গত বুধবার থেকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি। শুক্রবার তার ভাই গোলাম মোহাম্মদ কাদের এরশাদের জন্য দোয়া চান দেশবাসীর কাছে। যদিও তিনি চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানিয়েছিলেন, তার ভাইয়ের অবস্থা আগের চেয়ে ভালোর দিকে।
সাবেক রাষ্ট্রপতির ফুসফুসে পানি জমেছে, যা বের করা জরুরি। তবে তাঁর ফুসফুসের পানি বের করলে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটতে পারে। তবু এই পানি অপসারণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় পার্টির বনানী অফিসে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার বিষয়ে রবিবার সন্ধ্যায় সন্ধ্যা ৬ টায় সংবাদ সম্মেলনে কথা বলবেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের।
৯০ বছর পার হওয়া সাবেক সেনা শাসক দীর্ঘদিন ধরে নানা রোগে ভুগছেন। গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে তিনি বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে আসেন। সে সময় এ নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়ালেও পরে জানা যায় তার অবস্থা সঙ্গীন।
এর মধ্যেই জাতীয় পার্টি তার চেয়ারম্যানকে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচন করে। আর এরই মধ্যে তিনি দলের উত্তরসূরী হিসেবে ছোট ভাই জি এম কাদেরকে নির্বাচন করে গেছেন।
১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক শাসন জারির মাধ্যমে সেনাপ্রধান এরশাদ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসেন। তার পূর্বসূরি জিয়াউর রহমানের পথ ধরে ক্ষমতায় থেকেই গঠন করেন তার রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টি। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর গণঅভ্যুত্থানের কারণে ক্ষমতা ছাড়েন তিনি।
এরপর এরশাদ দুর্নীতির মামলায় সাত বছর কারাগারে থাকেন। তবে ক্ষমতা দখল ও জেনারেল মঞ্জুর হত্যাসহ তার বিরুদ্ধে থাকা আরো বেশ কিছু মামলার নিষ্পত্তি হয়নি দীর্ঘ দিনেও। আর এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ তাকে জোটে নিয়েছে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: