কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক আবু নাঈমের বিরুদ্ধে অভিযোগ: ঘুষ না পেয়ে পাসপোর্ট অফিসে নারীকে কান ধরে উঠবস, চুল ধরে নির্যাতন

এবার ঘুষ দিতে রাজি না হওয়ায় নারীকে রুমে আটকিয়ে কান ধরে উঠবস করালেন কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক। শুধু তাই নয়, নারীর চুল ধরে দুই আঙুল দিয়ে চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টাও করেছিলেন এই অফিসার। এমনটাই দাবি করেছেন ভুক্তভোগী সাবেকুন নাহার ও তার মেয়ে সেবাপ্রার্থী জোসনা আক্তার।
গত বুধবার (২৬ জুন) কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে এ ঘটনা ঘটে। ওইদিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত পাসপোর্ট অফিসের দু’তলায় আলাদা দু’টি কক্ষে মা-মেয়েকে আটকে রাখা হয় বলেও জানা গেছে।
ভুক্তভোগী কক্সবাজার সদরের ইসলামাবাদ ইউনিয়নের আলিয়াবাদের এলাকার প্রবাসি নুরুল ইসলামের স্ত্রী ও তার মেয়ে। তারা সদরে ঈদগাঁও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের ভাতিজি ও নাতনী এবং ঈদগাঁও উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুহেনা বিশাদের চাচাতো বোন ও ভাতিজি বলে জানা যায়।
সেবাপ্রার্থী জোসনা আক্তার জানান, দালাল ছাড়া পাসপোর্ট কম খরচে করা যায় জেনে তার প্রবাসি বাবার কথামত মা’কে সঙ্গে নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে যান। পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে ব্যাংক রশিদের রেফারেন্স নং 313415A2002776 সহ যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন ফরমও জমা দেন তিনি।
আবেদন ফরম গ্রহণের পর ফিঙ্গার দিতে গেলে পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক আবু নাইম হঠাৎ বর্মায়া বলে মা-মেয়েক অশালীন ভাষায় গালিগাজ করেন এবং আবেদন ফরম ছিঁড়ে ফেলেন বলে জানান জোসনা।
তিনি আরোও জানান, পরে দু’তলায় নিয়ে মা-মেয়েকে আলাদা দুটি কক্ষে আটকিয়ে ৫০হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন এই অফিসার।
জোসনা আক্তারের মা সাবেকুন নাহার জানান, জোসনার মা মারা গেছে, তিনি তার সৎ মা এবং খালা। আইডি কার্ডে মায়ের নাম বিভিন্ন থাকায় এটিকে পুঁজি করে অফিসার আবু নাঈম প্রথমে রোহিঙ্গা ও নকল মা প্রমাণের চেষ্টা করেন। পরে ব্যর্থ হয়ে ৫০ হাজার টাকা ঘুষের প্রস্তাব দেন।
সাবেকুন নাহারের দাবি, দাবিকৃত ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে উক্ত অফিসার এক হাতে তার মাথার চুল ও অন্য হাতের দুই আঙুল দিয়ে দু’চোখ আঙুল দিয়ে উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেন। অনেক গালিগালাজের পর এক পর্যায়ে তাকে কান ধরে তিন বার উঠবস করতে বাধ্য করেন। তার দাবি, বন্ধ কক্ষে একা হওয়ায় ভয়ে তিনি বাধ্য হয়েছেন কান ধরে উঠবস করতে।
ভুক্তভোগীর মতে, তিনি বা তার মেয়ে রোহিঙ্গা হয়ে থাকলে বা নকল মা প্রমাণিত হলে কর্তৃপক্ষের উচিত পুলিশে দেয়া কিন্তু তা না করে এইভাবে তাকে তার যুবতি মেয়েকে টানা ৫ ঘণ্টা একটা কক্ষে আটকে রেখে নির্যাতন এক প্রকার যৌন নির্যাতন করার সামিল। তিনি এখন পাসপোর্ট নয়, আগে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান। বিচার না পেলে আত্মহত্যার হুমকি দেন এই নারী।
এ বিষয়ে জোসনা আক্তার কক্সবাজার জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) দুপুরে পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক আবু নাইমের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করার কথা নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসের কর্মরত এক কর্মকর্তা।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অফিসার আবু নাঈমের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ আগেও হয়েছিলো। রামু উপজেলার এক তরুণী একই ধরনের অভিযোগ এনে লিখিত অভিযোগও দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই তরুণী শুনানির ধার্য তারিখে উপস্থিত না হয়ে পরের দিন খবর নিতে আসেন। তাই এ বিষয়ে আর আগাতে পারেননি জেলা প্রশাসন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত অফিসার আবু নাঈমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি তার মুঠোফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

%d bloggers like this: