কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সেমিনারে লে.কর্ণেল (অবঃ) ফোরকান – ইমারত নির্মাণের অনুমোদন দেয়ার ক্ষমতা পৌরসভার নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
সাম্প্রতিক সময়ে কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান কর্তৃক পৌর এলাকায় ইমারত নির্মাণে পৌরসভার অনুমোদন গ্রহণে দেয়া চিঠির বিষয়ে কয়েকজন বক্তা জানতে চাইলে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে.কর্ণেল (অবঃ) ফোরকান বলেন, বিষয়টি আইন এবং গেজেটে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। পৌরসভা এমন চিঠি দিতে পারে না। ইমারত নির্মাণের অনুমোদন দেয়ার ক্ষমতা পৌরসভার নেই।
গতকাল ২৫ জুলাই বিকেলে ‘পর্যটন নগরী কক্সবাজারের মহাপরিকল্পনা ও উন্নয়ন ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে এই বিষয়টি নিয়ে পরিস্কার ঘোষণা দেন তিনি।
কউক সেবা সপ্তাহ ২০১৯ উপলক্ষে কক্সবাজার জেলার জন্য প্রণয়নাধীন নতুন মহাপরিকল্পনায় জেলার সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে সেমিনারটির আয়োজন করেছিলো কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)। সকাল ১১ টায় কউক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন কউক চেয়ারম্যান লে.কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন কউক সদস্য (প্রকৌশল) লে. কর্নেল আনোয়ার উল ইসলাম। কউক সচিব (উপ-সচিব) আবু জাফর রাশেদ’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) এস.এম. সরওয়ার কামাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ আদিবুল ইসলাম, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা, কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আবছার, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সোমেশ^র চক্রবর্তী, মুক্তিযোদ্ধো কামাল হোসেন চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শাহজাহান, জেলা জাসদ সভাপতি নঈমুল হক চৌধুরী টুটুল, কউক সদস্য ইঞ্জিনিয়ার বদিউল আলম, সাংবাদিক ফজলুল কাদের চৌধুরী, আবু তাহের চৌধুরী, মুহাম্মদ আলী জিন্নাত প্রমুখ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।
সেমিনারে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (দক্ষিণ) মোঃ হুমায়ূন কবির, কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কায়সারুল হক জুয়েল, রামু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল সরওয়ার কাজল, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ নুরুল আমিন, কউক সদস্য ডাঃ সাইফুদ্দিন ফরাজি, কউক সদস্য অ্যাড. প্রতিভা দাশ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে লে. কর্নেল ফোরকান আহমদ বলেন, বর্তমান মহাপরিকল্পনাটি ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে প্রণীত। কউক গঠনের আগে প্রণয়নকৃত এই মহাপরিকল্পনা বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাস্তবায়ন রীতিমতো অসম্ভব। বিষয়টি বিবেচনা করেই নতুন মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এই মহাপরিকল্পনায় থাকা পুরো সীমানা নিয়ন্ত্রণে আনতে কউক’র ৫ থেকে ১০ বছর লাগবে। ধীরে ধীরে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ। যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি বাসযোগ্য কক্সবাজার উপহার পায়।
কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আবছার কউক চেয়ারম্যানকে সমর্থন করে বলেন, পৌরসভার ইমারত নির্মাণে অনুমতি দেয়ার কোন ক্ষমতা নেই। আমার সময়ে আমিও অনুমোদন দিয়েছিলাম। পৌরসভার তহবিল সমৃদ্ধ করতেই এই উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কেউ এই বিষয়ে মামলা করলে হয়তো ওই সময়ই পৌরসভাকে এই কাজ বন্ধ করতে হতো।
মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, বিশে^র কোথাও শহরের মূল অংশে বিমানবন্দর নেই। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করেই কক্সবাজার জেলার জন্য প্রণয়নাধীন মহাপরিকল্পনায় (মাস্টার প্ল্যান) বিমানবন্দর স্থানান্তরের বিষয়টি সংযুক্ত করতে হবে। দেশের প্রতিরক্ষার স্বার্থ বিবেচনা করেই এই স্থানান্তর প্রয়োজন। পাশাপাশি মাস্টার প্ল্যানে যাতে স্থানীয় মানুষের স্বার্থ পরিপন্থী কোন বিষয় উল্লেখ না থাকে। সে দিকেও নজর দিতে হবে। ডায়াবেটিক হাসপাতাল, শিশু একাডেমি, শিশু পার্কের মতো জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদের পাঁয়তারা চলছে। এটি কখনো উন্নয়নের অংশ হতে পারে না।
এদিকে, গতকালের ওই সেমিনারে মহাপরিকল্পনা ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে শহরের চিত্র নিয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচকরা ইতঃপূর্বে কউক কর্তৃক পরিচালিত অভিযানকে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে সমর্থন জানান। পাশাপাশি লালদিঘিতে নির্মিত মসজিদের বিষয়ে কউক’র অবস্থান জানতে চান। প্রত্যুত্তরে কউক চেয়ারম্যান বলেন, লালদিঘিতে নির্মিত দুইটি মসজিদের মধ্যে একটি মসজিদ স্থানান্তর করবে না কউক। পশ্চিম পাশের মসজিদটিকে উত্তর পাশে স্থানান্তর করা হবে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: