চীন প্রশ্নে বিপরীতমুখী অবস্থানে ইসরায়েল-আমেরিকা

চলমান বিশ্ব রাজনীতির ক্ষেত্রে একপ্রকার অস্থিরতা বিরাজ করছে। সম্প্রতি চীন-আমেরিকার সম্পর্কের দিকে তাকালেই এ দ্বন্দ্ব বোঝা যায়। এই যুদ্ধে দেশটি কমবেশি পাশে পেয়েছে নিজ মিত্রদের। আর মিত্রদের মাঝে মার্কিনের সবচেয়ে কাছের এবং সবচেয়ে পরীক্ষিত বন্ধু হলো ইসরায়েল।
কিন্তু সম্প্রতি ইসরায়েলের হাইফা বন্দর পরিচালনা সংক্রান্ত চীনের সাথে করা চুক্তিকে ঘিরে যেন সেই সম্পর্কের মাঝে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমনকি চীনের সাথে করা এ বাণিজ্য চুক্তিটির জন্য দীর্ঘদিনের বন্ধু ইসরায়েলকে সতর্ক করেছে আমেরিকা। মূলত নিরাপত্তার দিক উল্লেখ করে ইসরয়েলকে এ সতর্কবার্তা দেয়া হয়।
বৃহস্পতিবার মার্কিন সিনেটের আর্মড সার্ভিসেস কমিটিতে এ সংক্রান্ত একটি বিল পাস হয়েছে। ইরানভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।
সিনেটের সর্বশেষ সামরিক বাজেট বিলে বলে বলা হয়, হাইফা বন্দর পরিচালনার জন্য চীনকে দায়িত্ব না দেয়ার বিষয়ে ইসরায়েলকে হুঁশিয়ার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই বন্দরে মার্কিন ৬ষ্ঠ নৌবহরের ঘাঁটি ছিল। এছাড়া, বহুদিন ধরে হাইফা বন্দর এলাকায় আমেরিকা ও ইসরায়েলের সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সিনেটের ওই বিলে আরো উল্লেখ করা হয়, ‘হাইফা বন্দরে ভবিষ্যতে আমেরিকার নৌবাহিনীর উপস্থিতির প্রয়োজন হবে, কিন্তু চীনের সঙ্গে চুক্তির কারণে সে ক্ষেত্রে নিরাপত্তা সংকট তৈরি হবে। এছাড়া, ইসরায়েলে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকিও বিবেচনায় নেয়ার কথা বলেছে আমেরিকা। ইসরায়েলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণ করে দেয়ার চুক্তি করেছে চীন।
চীনের সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল পোর্ট গ্রুপ ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি করেছে। এ চুক্তি মোতাবেক চীনা কোম্পানিটি ২৫ বছর ধরে বন্দরটি পরিচালনা করবে। ২০২১ সাল থেকে বন্দরটি পরিচালনার দায়িত্ব নেবে চীনা কোম্পানিটি।
প্রসঙ্গত গত বছর মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছিলেন, যে ইসরায়লের বন্দর নির্মাণ করে দেয় চীন, সেই ইসরায়েলের বন্ধু হতে পারে না আমেরিকা।
মূলত এ ঘটনা গুলোর মধ্য দিয়ে পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে আমেরিকা-ইরায়েলের মাঝে পার্থক্য লক্ষণীয় হয়ে উঠছে। যা কার্যত চীন প্রশ্নে দেশ দুটিকে বিপরীতমুখী অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: