জিয়ার কবর অপসারণের আহ্বান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর

জাতীয় সংসদ ভবনের মূল নকশার বাইরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিসহ সব ধরনের স্থাপনা অপসারণের আহ্বান জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।
শনিবার জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থ বছরের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ‘৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। এর পরে জিয়া অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার বন্ধ করে দেন। তিনি একটি অসাম্প্রদায়িক দেশকে সাম্প্রদায়িক দেশে রূপান্তরিত করেন।
মন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান জামাত, আলবদর, আলশামস, রাজাকারদের নিয়ে সরকার গঠন করে, স্বাধীনতা বিরোধীদের হাতে পতাকা তুলে দেন। পাকিস্তানী ধারাবাহিকতায় দেশ পরিচালিত হচ্ছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আবারো দেশ পরিচালিত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
যে গতিতে দেশ উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে আমরা নির্ধারিত সময়ের আগেই মধ্যম আয়ের ও উন্নত দেশে পরিণত হবো।
এসময় তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধিসহ তাদের মৃত্যুর পর কবর সংরক্ষণ ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের নামে এলজিইডির রাস্তার নামকরণ করার দাবি জানান।
॥‘জিয়ার কবর সরানোর আহ্বান আ’লীগের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা’॥
মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে যে বক্তব্য রেখেছেন তার প্রতিক্রিয়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, উনি এ ধরনের কথা প্রায়ই বলেন, আমরা মনে করি যে তাদের যে রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা এগুলা তারই বহিঃপ্রকাশ।
শনিবার সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে বিকেল সাড়ে ৫টায় বৈঠক শুরু হয়, শেষ হয় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাস, ড. মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছাত্রদলের ব্যাপারে যারা দায়িত্বে রয়েছেন তারা তাদের দায়িত্ব পালন করবেন, আপনাদের জানাবেন।
কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা কর্মসূচি নিয়ে কাজ করছি চার সপ্তাহের মধ্যে কর্মসূচি আসবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বরগুনায় রিফাত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিককালে এ ধরনের হত্যাকাণ্ডে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তথা সরকারের ব্যর্থতা ও উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছে বলে সবাই মনে করে। যেহেতু জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নয়, তাদের কোনো জবাবদিহিতা নেই।
তিনি বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের সন্ত্রাস ও অস্ত্রের মুখে জনগণের অধিকার হরণ করেছে। তাই রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের আস্থা হারিয়ে যাচ্ছে। ক্রমান্বয়ে বাংলাদেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে যাচ্ছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, একটি চরম অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক সংকট বিরাজ করছে দেশে। সবাই মনে করে এই চরম সঙ্কট নিরসনের একমাত্র উপায় হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং অবিলম্বে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের পার্লামেন্ট গঠন।
অবিলম্বে দেশনেত্রী মুক্তি এবং এই আন্দোলনকে আরো বেগবান করার লক্ষ্যে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান বিএনপির মহাসচিব।

Leave a Reply

%d bloggers like this: