ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কোন কোন বিষয়ে গুরুত্ব দেবেন?

ডায়াবেটিস আসলে জীবনযাপন আক্রান্ত করার মতো একটি রোগ। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে হলে জীবন যাপনকে আদর্শ মানে নিয়ে উন্নতি করতে হবে।
সেই ক্ষেত্রে যারা ডায়াবেটিস আক্রান্ত হন না, তাদের ক্ষেত্রে বলে নিতে চাই, আসলে আগে দেখতে হবে আপনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কি না। কারণ, টাইপ টু ডায়াবেটিসের রোগীদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন কোনো লক্ষণ দেখা দেবে না। তাহলে আমরা যারা ভাবছি, আমাদের ডায়াবেটিস নেই, পরীক্ষা করলে তাদের ডায়াবেটিস দেখা যাবে। তাহলে আমরা যারা ভাবছি ডায়াবেটিস নেই, তাদের কিন্তু ডায়াবেটিস থাকতে পারে। আবার কারো কারো খুব অল্প লক্ষণ দেখা দিচ্ছে, কিন্তু উনি পরীক্ষা করছেন না বলে হয়তো ধরা দিচ্ছে না। কিন্তু ঝুঁকিতে সবাই রয়েছে। বাংলাদেশে বসবাস করেই আমরা ঝুঁকিতে আছি। আমাদের এখনকার জীবন ব্যবস্থা যেটি সেটি কিন্তু ঝুঁকি বাড়ছে।
শারীরিক শ্রম না করা, সেই সঙ্গে মেটাবলিক বিপাকীয় ঝুঁকি তৈরি করছে। এর মধ্যে ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি, হৃদরোগ হওয়ার ঝুঁকি অনেক। বাইরে থেকে আমরা দেখি স্থূলতা। এই স্থূল রোগীরা কম বয়সে হোক, আর বেশি বয়সে হোক, ঝুঁকিতে রয়েছে। তাহলে আমরা যখন চিকিৎসা করতেই যাব এই বিষয়গুলোকে ঠিক করে আসতে হবে।
কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় ওজন কমাতে হবে। সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনায় আসতে হবে এবং শারীরিক শ্রম থাকতে হবে। এখন বাংলাদেশে যে আর্থ সামাজিক অবস্থা বিরাজ করছে, অনেকেই শারীরিক শ্রম দরকার হয় না। সারা দিন বসে থাকা কিন্তু একটি বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে। একেও আমাদের নজরে আনতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনটি? তাহলে হবে খাদ্য ব্যবস্থাপনা। দুই নম্বর হলো, কায়িক শ্রম। তিন নম্বর হলো ওষুধ।
এখানে একটি অসুবিধা হলো, যিনি খাবার ওষুধ নিচ্ছেন, তিনি কিন্তু আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। পরিসংখ্যান হয়েছিল বারডেমে ডায়াবেটিস রোগীদের ডায়াবেটিস রোগের মাত্রা কেমন, এটি নিয়ে। তিনটিই হতাশাজনক। একটি আমার ছিল, বাকি দুটো ছিল জাফর আহমেদ, লতিফ স্যারের- বারডেমের। কোনোটিতেই আমরা ২৫ শতাংশের বেশি মানুষের নিয়ন্ত্রণ পাইনি। তাই ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে মানে তার কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যাচ্ছে। হৃদরোগ হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। ডায়াবেটিস রোগের আশঙ্কা বাড়ছে। যেসব দম্পতি বাচ্চা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে, তাদের দুজনের একজন হয়তো ডায়াবেটিসে ভুগছে।
ডায়ালাইসিস হচ্ছে যাদের তাদের একটি বড় অংশের ডায়াবেটিসের কারণে কিডনির সমস্যা হচ্ছে। ছানি পড়া থেকে শুরু করে রেটিনোপ্যাথি, এই ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসের হাত অনেক বড়।
যদি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি, তাহলে কী হলো? চিকিৎসা করছেন না, তা নয়। কিন্তু ঠিকমতো করা হচ্ছে না। এই খাদ্যব্যবস্থাপনাতেই উনি আসতে পারছেন না।

Leave a Reply

%d bloggers like this: