‘দেশের টাকা পাচারকারীরাই নব্য রাজাকার’

যারা দেশের টাকা পাচার করে তাদের নব্য রাজাকার বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ও ওয়াকার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা।
রাজশাহীতে ‘বাজেট ভাবনা ২০১৯-২০’ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান মহাজোট সরকার আমলে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশীদের অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি ও ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগসহ ঋণ খেলাপিদের সুযোগ দেয়ায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
শহীদ ড. জামিল আকতার রতন ফাউন্ডেশনের আয়োজনে শনিবার (২৯ জুন) বিকেলে রাজশাহী চেম্বার অফ কমার্স ভবনের সম্মেলন কক্ষে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘দেশের পাঁচ শতাংশ মানুষের কাছে অর্থ পুঞ্জিভূত হয়ে পড়েছে। তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য বাজের তৈরি হচ্ছে। ঋণ খেলাপিদের কালো টাকা সাদা করার সুযোগ তৈরির পথ ও পদ্ধতি এদেশের অর্থ মন্ত্রণালয় খুঁজে বেড়ায়। মুখে মুক্তিযুদ্ধের কথা বলা হলেও এই নব্য রাজাকারদের প্রশ্রয় দেয়া হচ্ছে। বাজেটের মাধ্যমে অতি ধনী ও অবৈধ সম্পদের মালিকদের সুবিধা দেয়া হচ্ছে। গরীরদের উপেক্ষা করা হচ্ছে।’
দেশে বিদ্যমান আঞ্চলিক বৈষম্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাজশাহীতে শিল্পায়ন ঘটাতে হলে নদী ও রেল পথের মাধ্যমে এই অঞ্চলের সাথে দেশের অন্যন্য অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে হবে। তবে এই অঞ্চলে এমন কোনো শিল্পায়ন ঘটানো যাবে না, যাতে আমাদের পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়ে ও পদ্মা নদীর পানি বুড়িগঙ্গার মতো মতো কালো হয়ে যায়। উন্নত বিশ্বের মত শিল্পায়নের জন্য নদী থেকে যে পানি নেয়া হবে তেমন পানিই ফেরত দিতে হবে। অর্থাৎ শিল্পকলকারখানার বিষাক্ত পানি পরিশোধনের মাধ্যমে নালা দিয়ে ফেলতে হবে।’
বাদশা বলেন, ‘বাজেটে কতো শতাংশ মানুষ উপকৃত হবে ও কতো শতাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে তা ভেবে দেখা দরকার। গ্রামে ৪০ দিন কাজ থাকে। বাঁকি দিনগুলো গ্রামের কৃষকদের বসে থাকতে হয়। তবে গ্রামগুলোতে ১৫০ দিন কর্মস্থানের ব্যবস্থা করা হলে দেশের প্রেক্ষাপট ভিন্ন হয়ে যাবে। সরকারের দেয়া সার ও সেচের বিনিময়ে উৎবৃত্ত খাদ্য উৎপাদন করে কৃষকরা আমাদের চমক দিয়েছে। অথচ সেই উৎবৃত্ত খাদ্য উৎপাদন করে আজ মনে হচ্ছে কৃষকরা পাপ করে ফেলেছে। প্রকৃত অর্থে অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদনের জন্য আমাদের কৃষকদের পুরস্কৃত করা দরকার। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ না হলে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।’
এসময় তিনি সামাজিক নিরাপত্তা খাতে দেয়া অনুদান বৃদ্ধির ওপর জোড় দিয়ে জানান, এই খাতে যে পরিমাণ অনুদান দেয়া হচ্ছে তা যথেষ্ট নয়। চরাঞ্চলে বসবাসরত এক কোটি মানুষকেও এর আওতায় আনতে হবে।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন শহীদ ডা. জামিল আকতার রতন ফাউন্ডেশনের সভাপতি আরিফুল হক কুমার।

Leave a Reply

%d bloggers like this: