নির্বাচনী ব্যবস্থায় মানুষের আস্থা নেই : মেনন

১৪ দলের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন।
নির্বাচনের মর্যাদা ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিয়ে ১৪ দলের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন বলেছেন, নির্বাচন এবং পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থায় জনগণের আস্থা নেই। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে জনগণ ভোট দেওয়ার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। এটা শুধু নির্বাচনের জন্যই বিপজ্জনক নয়, দেশের জন্যও বিপজ্জনক।’
বুধবার জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে মেনন এ কথা বলেন। বার্তা সংস্থা ইউএনবির এক খবরে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
মহাজোট সরকারের সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, যদি রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন অংশ নির্বাচনের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে তাহলে রাজনৈতিক দল শুধু নির্বাচন নয়, রাষ্ট্র পরিচালনায়ও প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে ফেলবে। এটা সবার জন্য প্রযোজ্য এবং আওয়ামী লীগের জন্যও।
এর আগে বুধবার রাজশাহীর পবা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অনিয়ম ও ভোটদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেন ওয়ার্কার্স পার্টির চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. আশরাফুল হক তোতা। তিনি বলেন, ভোটারদের বেশিরভাগই তাঁর সমর্থক। আওয়ামী লীগ প্রার্থীর লোকজন বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরে হাতুড়ি প্রতীকের সমর্থক ও ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসতে বাধা দিয়েছে। ভোটারদের ভোট দিতে না দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আমাদের ভোট দেওয়ার যে গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে, তা হরণ করা হয়েছে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে ওয়ার্কার্স পার্টির যুব সংগঠন যুবমৈত্রী রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি মনির উদ্দীন পান্না বলেন, বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র সকাল থেকেই ছিল নৌকা প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের দখলে। তারা সেখানে বসে বসে চিহ্নিত করে কারা ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী অর্থাৎ হাতুড়ির ভোটার। যখনই হাতুড়ির কোনো ভোটার ভোটকেন্দ্রে এসে উপস্থিত হয়েছে, তখনই তারা দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে তাদের বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি দেখিয়ে বাড়িতে ফেরত পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, এই নির্বাচনকে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যাবে না।
তবে তাঁর এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মুনসুর রহমান বলেন, এলাকায় ওয়ার্কার্স পার্টির সাংগঠনিক ভিত্তিই নেই। প্রচণ্ড গরম, নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী না থাকা এবং নৌকার বিপক্ষে শক্তিশালী প্রার্থী না থাকায় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জন্মেছে যে নৌকার বিজয় শুধু সময়ের অপেক্ষা। এসব কারণে ভোটারদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল বলে মনে করেন তিনি।

Leave a Reply

%d bloggers like this: