বাংলাদেশের সেমিতে যাওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু?

বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে সেমি ফাইনালের পথ অনেকটাই কঠিন করে ফেলল বাংলাদেশ। এদিন ট্রেন্ট ব্রিজে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪৮ রানে হেরেছে টাইগাররা।
ব্যাটিং-স্বর্গ বলে খ্যাত নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজ। এই উইকেটেই ওয়ানডের সর্বোচ্চ রান উঠেছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানও এই মাঠেই হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার তাই টস জিতে ব্যাটিং নিতে মোটেও দ্বিধায় ভোগেননি অ্যারন ফিঞ্চ। তার লক্ষ্য ছিল পরিষ্কার। বাংলাদেশের কাঁধে রানের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া।
সেই লক্ষ্য পূরণও হয়েছে তার। ডেভিড ওয়ার্নারের দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি, ফিঞ্চ-খাজার হাফ সেঞ্চুরি ও শেষ দিকে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ছোটখাটো এক তাণ্ডবে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ৩৮১ রান করে অজিরা।
এই বিপুল পাহাড়ের সামনে অবশ্য ভালোই লড়াই করেছে টাইগাররা। নির্ধারিত ৫০ ওভার পর্যন্ত খেলে ৮ উইকেটে করেছেন ৩৩৩ রান। যা বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর।
কিন্তু লড়াইটা যেমনই হোক ম্যাচ জিতে পয়েন্ট ঝুলিতে ভরেছে অস্ট্রেলিয়াই। ৬ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে এখন তারা। সেমির পথ অনেকটা মসৃণই হয়ে গেল বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের।
এদিকে সমান সংখ্যক ম্যাচে বাংলাদেশের পয়েন্ট ৫। জিতেছে দুই ম্যাচ। একটি পরিত্যক্ত। আর হার তিনটিতে।
বাংলাদেশের সামনে আর বাকি ৩ ম্যাচে। প্রতিপক্ষ— আফগানিস্তান, ভারত ও পাকিস্তান। সেমি ফাইনালের আশা টিকিয়ে রাখতে হলে এই ৩ ম্যাচেই জিততে হবে বাংলাদেশকে।
বাকি তিন ম্যাচ জিতলে বাংলাদেশের পয়েন্ট হবে ১১। তাতেও অবশ্য শেষ চার নিশ্চিত হবে না। তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য ম্যাচের দিকে। বিশেষ করে শীর্ষে থাকা চার দলগুলোর ম্যাচের ওপর নির্ভর করবে তখন বাংলাদেশের ভাগ্য।
অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে জয়-পরাজয়ের ওপরই তখন টাইগারদের ভাগ্য ঝুলে থাকবে।
অন্য ম্যাচের ওপর বাংলাদেশের হাত নেই। কিন্তু নিজেদের বাকি ৩ ম্যাচে এখন ফোকাস দিতে হবে মাশরাফি বিন মুর্তজাদের।
বাংলাদেশের অধিনায়কও স্বীকার করছেন তা। পরবর্তী ৩ ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই। সবচেয়ে বড় কথা এখনও সেমির আশা ছাড়ছে না বাংলাদেশ।
তাই পরবর্তী তিন ম্যাচকে পাখির চোখ করেছেন মাশরাফি, ‘এখনও আমরা পারি (সেমিতে যেতে), তিন ম্যাচ বাকি আছে। আমাদের দারুণ ক্রিকেট খেলতে হবে এবং এরপর দেখব। কাজটি কঠিন হবে। তিনটি ম্যাচ যদি জিততে পারি, এরপর দেখা যাবে কী অবস্থা। আমাদের জন্য আপাতত গুরুত্বপূর্ণ হলো বাকি তিনটি ম্যাচ একটি একটি করে এগোনো এবং জেতা।’

Leave a Reply

%d bloggers like this: