বাংলাদেশে মাদক আসে ভারত ও মিয়ানমার থেকে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, মূলত ভৌগলিক কারণে বাংলাদেশ মাদক উৎপাদনকারী দেশ না হয়েও মাদক সমস্যার কবলে পড়েছে। পাশের দেশ ভারত ও মিয়ানমার থেকে আমাদের দেশে অবৈধ মাদক প্রবেশ করে।
সোমবার টেবিলে উত্থাপিত বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মো. মুজিবুল হকের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে এ তথ্য জানান।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকেল সোয়া ৫টায় সংসদের এ অধিবেশন শুরু হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ের আলোচিত মাদক ইয়াবা যা প্রবেশ করছে মিয়ানমার থেকে। ভারত থেকে আমাদের দেশে গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইন ও ইনজেকটিং ড্রাগ আসে। ইয়াবা মূলত মিয়ানমার থেকে নাফ নদী হয়ে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের মাধ্যমে বাংলাদেশে পাচার হয়। ইয়াবার অনুপ্রবেশ বন্ধে ইতোমধ্যে টেকনাফে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ৯ জনের সমন্বয়ে একটি অস্থায়ী সার্কেল স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি কক্সবাজার জেলায় ১০ জন ব্যাটালিয়ন আনসারসহ মোট ১৯ জনের একটি টিম মাদকবিরোধী কাজ করছে।
মন্ত্রী জানান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ২০১৮ সালে এক লাখ ৬১ হাজার ৩২৩ জন মাদক কারবারির বিরুদ্ধে এক লাখ ১৯ হাজার ৮৭৮টি মামলা করেছে। ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ছয় হাজার ৬৭১ জন মাদক কারবারির বিরুদ্ধে ছয় হাজার ১৫৬টি মামলা করা হয়েছে। প্রতিদিন মাদকবিরোধী অভিযানের মাধ্যমে মাদক কারবারিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।
মাদক সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এ পর্যন্ত মহাপরিচালক পর্যায়ে পাঁচটি ফলপ্রসু দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ষষ্ঠ দ্বি-পাক্ষিক সভার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।
আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, পাশাপাশি ইয়াবা পাচার রোধকল্পে বাংলাদেশ মিয়ানমারের মধ্যে এ পর্যন্ত তিনটি দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি সভাতেই মিয়ানমারকে ইয়াবার উৎপাদন ও প্রবাহ বন্ধ করার জন্য এবং মিয়ানমার সীমান্তে অবস্থিত ইয়াবা তৈরির কারখানা সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়।
এছাড়াও মিয়ানমারের সঙ্গে চতুর্থ দ্বি-পাক্ষিক সভা আগামী অক্টোবর মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

Leave a Reply

%d bloggers like this: