বাস থেকে ফেলে যাত্রী হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা, চালক গ্রেফতার

ভাড়ার ঝামেলায় চলন্ত বাস থেকে লাথি দিয়ে ফেলার পর পিষে যাত্রী হত্যার ঘটনায় বাসের চালক রোকন উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ময়মনসিংহের ধোবাউড়া এলাকা থেকে সোমবার তাকে গ্রেফতার করা হয়।
নিজ কার্যালয়ে সোমবার বিকেলে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান গাজীপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার।
এ সময় তিনি হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা তুলে ধরেন। বলেন, ‘রোববার দুপুরে আলম এশিয়া পরিবহনের বাসটির হেলপার লাথি মেরে সালাহউদ্দিন আহমেদকে ফেলে দেন। এরপর চালক রোকন উদ্দিন তাকে পিষ্ট করে হত্যা করেন।’
এ ঘটনায় নিহতের ভাই জালাল উদ্দিন রোববার রাতেই চারজনকে আসামি করে জয়দেবপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর বাসটি জব্দ করা হলেও চালক রোকন ও তার সহকারীসহ (হেলপার) মামলার আসামিরা পালিয়ে যান।
জয়দেবপুর থানা পুলিশের একটি দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় সোমবার দুপুরে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া সীমান্ত এলাকা থেকে বাসচালক রোকন উদ্দিনকে গ্রেফতার করে বলে জানান পুলিশ সুপার।
এ সময় ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা তুলে ধরেন নিহতের ছোট ভাই জামাল উদ্দিন। তিনি জানান, তার ভাই স্ত্রী পারুলকে নিয়ে বাঘেরবাজার এলাকায় ভাড়া থেকে একটি কারখানা চালাতেন। ঈদের ছুটি শেষে রোববার সকালে সস্ত্রীক ময়মনসিংহের ফুলপুর শ্বশুর বাড়ি থেকে গাজীপুরে কর্মস্থলে ফিরছিলেন। পথে আলম এশিয়া পরিবহনের বাসে ভাড়া নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
মাওনা হাইওয়ে থানার ওসি দেলোয়ার হুসেন জানান, বাসের হেলপারকে নিজেও ‘চালক’ পরিচয় দিয়ে সালাহউদ্দিন ভাড়ার টাকা কিছু কম রাখার অনুরোধ করেন।
এ নিয়ে সালাহউদ্দিন ও তার স্ত্রীর সঙ্গে হেলপারের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে হেলপার লাথি মেরে সালাহউদ্দিনকে ফেলে দেবার হুমকি দেন। এ সময় তিনি ছোট ভাই জামালকে মোবাইল ফোনে বাঘেরবাজার বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়াতে বলেন। জামাল ৫-৬ জনকে নিয়ে সেখানে অপেক্ষা করতে থাকেন।
ইতোমধ্যে আলম এশিয়ার বাসটি বাঘেরবাজার স্ট্যান্ডে না দাঁড়িয়ে সালাহউদ্দিনকে লাথি দিয়ে ফেলে দেন। আর স্ত্রীকে নিয়ে চলে যেতে থাকেন। সালাহউদ্দিন সড়ক থেকে উঠে দৌড়ে গাড়ির সামনে গিয়ে গতিরোধের চেষ্টা করেন। কিন্তু, চালক রোকন উদ্দিন তার শরীরের ওপর বাসটি উঠিয়ে দেন।
এতে ঘটনাস্থলেই সালাহউদ্দিন মারা যান। পরে ঘটনাস্থল থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে তার স্ত্রী পারুলকে নামিয়ে দেয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তৎপর হলে বাসটি ফেলে চালক ও তার সহকারীরা পালিয়ে যান।
সোমবার দুপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাশের ময়নাতদন্ত হয়েছে। পরে স্বজনেরা লাশ নিয়ে গিয়ে দাফন করেছেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: