ভাগ্নেকে ফেরত চান সোহেল তাজ

অপহরণের শিকার সৈয়দ ইফতেখার আলম সৌরভকে ফেরত দেয়ার দাবি করেছেন তার মামা, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ। আর ছেলেকে ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সৌরভের মা সৈয়দা ইয়াসমিন আরজুমান।
সোমবার (১৭ জুন) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে সৌরভের মা অভিযোগ করে বলেন, ‘‘বেঙ্গল বিউটি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দেশে বিদেশে সুনাম অর্জন করে সৌরভ। তিনি এই চলচ্চিত্রের পরিচালক ছিলেন। সেই সময় একটি মেয়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং পরবর্তীতে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যোগাযোগ বহাল রাখে। এই সম্পর্কের একপর্যায়ে মেয়ে পর্দাশীল পরিবারের সদস্য বিধায় আমার ছেলেকে প্রস্তাব দেয় যে এই সম্পর্ক অক্ষত রাখতে হলে প্রাথমিক পর্যায়ে আপাতত টেলিফোনে বিয়ে সম্পন্ন করতে হবে। সৌরভ টেলিফোনে বিয়ে না করলে মেয়েটি নিজের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এই অবস্থায় আমার ছেলে আমাকে জানায় তার বাবা অন্য জায়গায় তাকে জোর করে বিয়ে দিয়ে দেয় এবং পরবর্তীতে ২০১৮ এর এপ্রিল মে এর কোনও এক সময় সে বিয়ে ভেঙে যায়। এ বিয়ে না টেকার রেশ হিসেবে মেয়ের বাবা আমার ছেলে এবং আমাদেরকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এরই জের হিসেবে ২০১৯ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি আমার ছেলেকে উত্তরার র‌্যাব হেড কোয়ার্টারে নিয়ে আসা হয় এবং প্রথমে তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে মেয়েটির সাথে যোগাযোগ না রাখে এবং তার মোবাইল রেখে দেয়। মোবাইল পরীক্ষা করে সৌরভের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ প্রমাণ না পেয়ে তাকে ছেড়ে দিয়ে এই বলে যে মেয়েটির সঙ্গে যোগাযোগ করলে ভয়াবহ পরিস্থিতি নেমে আসবে।’
তিনি বলেন, ‘এরপর ১১ ফেব্রুয়ারি বনানী থানার ওসি সৌরভকে ফোন করে আসতে বলে এবং পরের দিন থানায় যখন সে যায় তখন তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং তাকে বিভিন্ন অশ্লীলতায় জড়িয়ে থানায় মামলা করে ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দেওয়া হয়। শুধু তাই নয় মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন না করলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। এর এক সপ্তাহ না যেতেই সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সৌরভের কর্মস্থল ব্র্যাক সেন্টারে উপস্থিত হয়। সে সময় আমার ছেলে সেখানে উপস্থিত না থাকায় তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে মোবাইল নম্বর দিয়ে আসে। পরে সৌরভের বাবা এবং সৌরভ ওই কর্মকর্তাদের সঙ্গে বনানী স্টার কাবাবে দেখা করে। ওই কর্মকর্তা দুজন জানায় তাদের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা নির্দেশে তারা একটি অভিযোগ তদন্ত করছে। সে প্রেক্ষিতে আমার ছেলেকে কোন কোন দেশে ভ্রমণ করেছে, কবে গিয়েছে এসব নানা বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানতে পারে সৌরভ মাত্র দুইবার কলকাতায় গিয়েছে এবং তারা বিস্মিত হয়ে প্রমাণ হিসেবে পাসপোর্ট এর ফটোকপি সংগ্রহ করে। যাওয়ার সময় তারা বলে যায় -আমরা বুঝতে পেরেছি এটা একটা সাজানো নাটক, আমরা আমাদের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টা জানাবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘এরপর ১৬ মে আমাদের পারিবারিক বন্ধুর বাসা থেকে সৌরভকে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার পরিচয়ে চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় সিসিটিভির ফুটেজসহ হার্ডডিস্ক নিয়ে যায় তারা। তবে একই দিন গভীর রাতে আবার ফেরত দিয়ে যায়। সৌরভের কাছে জানতে চাইলে সে বলে একটি অজ্ঞাত স্থানে চোখ বাঁধা অবস্থায় হ্যান্ডকাপ পরিয়ে দীর্ঘ ১৫-১৬ ঘণ্টা বন্দী করে রাখার পর সম্ভবত দুপুর দুইটা তিনটার দিকে ৮-১০ জন লোক ইংরেজি এবং বাংলায় ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে বিষয়বস্তু একাংশ অংশই ছিল সেই মেয়ে সংক্রান্ত। তারাই উল্লেখ করে যে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার অভিযোগ ছিল কিন্তু তারা অনুসন্ধানের সত্যতা পায়নি। এরপর তাকে বাসায় ফেরত দিয়ে একটি প্রাপ্তি স্বীকার পত্রে অক্ষত অবস্থায় ফেরত পাওয়ার স্বীকারোক্তি নিয়ে যায় র‌্যাব।’
সৌরভের মা বলেন, ‘এরপর ৮ জুন দুপুর বেলা সৌরভের কাছে র‌্যাবের একটি ফোন আসে এবং সৌরভকে বলে চাকরি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় পাসপোর্ট, সার্টিফিকেট ও জীবনবৃত্তান্ত রেডি রাখতে, তারা আবার সৌরভকে সময় মতো ফোন দিয়ে কাগজ সংগ্রহ করে নিবে। ৯ জুন দুপুর তিনটার সময় র‌্যাব সদস্যরা সৌরভের সঙ্গে আবারো যোগাযোগ করে এবং প্রয়োজনীয় কাগজ ও পাসপোর্টসহ চট্টগ্রাম মিমি সুপার মার্কেটের সন্ধ্যা ৭ টায় উপস্থিত হতে বলেন। চাকরির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে গিয়ে আমার ছেলে আমার কাছে আর ফিরে আসেনি আর তার মোবাইল বন্ধ। আমরা মনে করছি আমাদের ছেলে রাতের মধ্যে ফিরে আসবে কিন্তু বাসায় না আসলে আমরা বিভিন্ন জায়গায় ছেলের খোঁজ করি এবং না পেয়ে পরের দিন সকাল বেলা থানায় একটি জিডি করি। আমি আপনাদের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
এসময় সোহেল তাজ বলেন, ‘আমাদের আজকের সংবাদ সম্মেলনের মূল বিষয় হলো সৌরভকে জীবিত অক্ষত অবস্থায় ফেরত পাওয়া। আমি এই বিষয়টি নিয়ে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের আইজিপি সঙ্গে কথা বলেছি। আমি আশা করবো আইন বহির্ভূত এবং ক্ষমতার অপব্যবহার যদি কেউ করে থাকে এতে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
সংবাদ সম্মেলনে সৌরভের বাবা ইদ্রিস আলম উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে ছেলের জন্য কেঁদে ফেলেন তার মা।

Leave a Reply

%d bloggers like this: