ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশের পথ কঠিন করল ইংল্যান্ড

ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশের সেমিফাইনালে যাওয়ার পথ কঠিন করল ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপে রবিবার দিনের একমাত্র ম্যাচে বিরাট কোহলিদের ৩১ রানে হারিয়েছে ইংলিশরা। এই জয়ের ফলে সেমিতে ওঠার পথ সহজ হয়েছে স্বাগতিকদের।
৮ ম্যাচ খেলে ১০ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলে এখন চতুর্থ অবস্থানে আছে ইয়ন মরগ্যানের দল। ৩ জুলাই স্বাগতিকরা লিগ পর্বে তাদের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। অন্যদিকে, ৭ ম্যাচ খেলে ১১ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ভারত। এবারের বিশ্বকাপে ভারতের এটি প্রথম হার। লিগ পর্বে তাদের দুইটি ম্যাচ বাকি আছে। ২ জুলাই বাংলাদেশের বিপক্ষে ও ৬ জুলাই শ্রীলঙ্কার মু্খোমুখি হবে ভারত।
এই ম্যাচে ইংল্যান্ডের জয়ের ফলে বাংলাদেশের সমীকরণ অনেক কঠিন হয়েছে। সেমিফাইনালে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে ২ জুলাই ভারতকে হারানো ছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা নেই মাশরাফি বিন মর্তুজাদের সামনে। ভারতের কাছে হারলেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে যাবে টাইগারদের। ৫ জুলাই লিগ পর্বে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ পাকিস্তানের বিপক্ষে।
এদিন বার্মিংহামের এজবাস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে ইংল্যান্ডের দেয়া ৩৩৮ রানের জয়ের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ৩০৬ রান করতে সক্ষম হয় ভারত। দলের পক্ষে সেঞ্চুরি করেন ওপেনার রোহিত শর্মা। ১০২ রান করে আউট হন তিনি। এবারের বিশ্বকাপে এটি রোহিতের তৃতীয় সেঞ্চুরি। অধিনায়ক বিরাট কোহলি করেন ৬৬ রান। ৩৩ বলে ৪৫ রান করেন হার্দিক পান্ডিয়া। ৩১ বলে ৪২ রান করে অপরাজিত থাকেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। ইংল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে লিয়াম প্লানকেট ৩টি ও ক্রিস ওকস ২টি করে উইকেট শিকার করেন।
ভারত ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই চাপে থাকে। প্রথম ওভারে তারা কোনো রান নিতে পারেনি। দলীয় ৮ রানে ওপেনিং জুটি ভাঙে তাদের। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে বোলারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন লোকেশ রাহুল। ৯ বল খেলে তিনি রানের খাতা খুলতে পারেননি। এরপর ১৩৮ রানের জুটি গড়েন রোহিত ও কোহলি। দলীয় ১৪৬ রানে কোহলি ফিরে যান। দলের রান যখন ১৯৮ তখন ফিরে যান সেঞ্চুরিয়ান রোহিত। পরে হার্দিক পান্ডিয়া ঝড় তুললেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। শেষদিকে ধোনির আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ৩০০ পার করতে সক্ষম হয় ভারত।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ৩৩৭ রান সংগ্রহ করে ইংল্যান্ড। দলের পক্ষে সেঞ্চুরি করেন ওপেনার জনি বেয়ারস্টো। ১১১ রান করে আউট হন জনি বেয়ারস্টো। ৫৭ বলে ৬৬ রান করেন অপর ওপেনার জ্যাসন রয়। ৫৪ বলে ৬টি চার ও তিনটি ছক্কার সাহায্যে ৭৯ রান করেন বেন স্টোকস। আট বলে ২০ রান করেন জস বাটলার। ৪৪ রান করেন জো রুট। ভারতীয় পেসার মোহাম্মদ শামি ৫টি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া জ্যাসপ্রীত বুমরাহ ১টি ও কুলদীপ যাদব ১টি করে উইকেট শিকার করেন। ম্যাচ সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন ইংল্যান্ডের জনি বেয়ারস্টো।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ফল: ৩১ রানে জয়ী ইংল্যান্ড।
ইংল্যান্ড ইনিংস: ৩৩৭/৭ (৫০ ওভার)
(রয় ৬৬, বেয়ারস্টো ১১১, রুট ৪৪, মরগ্যান ১, স্টোকস ৭৯, বাটলার ২০, ওয়েকস ৭, প্লানকেট ১, আর্চার ০; শামি ৫/৬৯, বুমরাহ ১/৪৪, চাহাল ০/৮৮, হার্দিক ০/৬০, কুলদীপ ১/৭২)।
ভারত ইনিংস: ৩০৬/৫ (৫০ ওভার)
(রাহুল ০, রোহিত ১০২, কোহলি ৬৬, পান্ত ৩২, হার্দিক ৪৫, ধোনি ৪২, কেদার ১২; ওয়েকস ২/৫৮, আর্চার ০/৪৫, প্লানকেট ৩/৫৫, উড ০/৭৩, রশীদ ০/৪০, স্টোকস ০/৩৪)।
ম্যাচ সেরা: জনি বেয়ারস্টো (ইংল্যান্ড)।

Leave a Reply

%d bloggers like this: