মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন প্রধানমন্ত্রী

সাগরে মাছ ধরায় ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের জন্য চট্টগ্রামের ৩৮ জেলেপল্লীর বাসিন্দাদের দাবি যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। দেড় ঘণ্টার মহাসড়ক অবরোধের পর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের জানানো হয়েছে, এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
রোববার (৯ জুন) সকালে সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন জেলে সম্প্রদায়ের কয়েক হাজার লোক। দেড়ঘণ্টা পর জেলা প্রশাসকের ‘আজকের (রোববার) মধ্যে’ সমস্যা সমাধানের আশ্বাসে জেলেরা মহাসড়ক ছেড়ে যান।
পরে দুপুরে জেলে সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন। এসময় সীতাকুণ্ড এলাকার সংসদ সদস্য দিদারুল আলম, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা, সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিল্টন রায় এবং জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্যামল কুমার পালিত এবং মৎস্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা।
ইউএনও মিল্টন রায় সারাবাংলাকে বলেন, ‘জেলে সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা তাদের জন্য শিথিল করার বিষয়ে দাবিনামা বৈঠকে তুলে ধরেছেন। জেলা প্রশাসকসহ উপস্থিত সবাই এই দাবি বিবেচনার বিষয়ে একমত হয়েছেন। তবে যেহেতু ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সরকারি নোট ইস্যু হয়েছে, এখন সেটা পাল্টানোর এখতিয়ার একমাত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর। এজন্য সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আগে বিষয়টি উত্থাপন করা হবে। এরপর তিনিই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’
ইউএনও জানান, জেলা প্রশাসক ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ এর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন। সোমবার সকালে জেলা প্রশাসক আবারও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যোগাযোগ করবেন। তিনজন সংসদ সদস্য দিদারুল আলম, আফছারুল আমিন ও এম এ লতিফ জেলে সম্প্রদায়ের একটি স্মারকলিপি সুপারিশসহ প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেবেন। এছাড়া রানা দাশগুপ্ত ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যোগাযোগ করে বিষয়টি তুলে ধরবেন।
আন্দোলনকারী জেলেরা চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা থেকে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট পর্যন্ত তিনটি সংসদীয় এলাকার অধীন জেলেপল্লীর বাসিন্দা। সাংসদ দিদারুল আলম সারাবাংলাকে বলেন, ‘জেলেদের যে দাবি, সেটা আমরা তিনজন এমপি মিলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছাব। তাদের দাবির বিষয়টি যাতে সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করা হয়, সেটাও আমরা দেখব।’
এই বিষয়ে রানা দাশগুপ্তের সঙ্গে মোবাইলে চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতা শ্যামল কুমার পালিত সারাবাংলাকে বলেন, ‘সভায় জেলা প্রশাসকসহ ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ব্যক্তিগতভাবে জেলেদের সমস্যার বিষয়টি তুলে ধরার জন্য রানা দাশগুপ্ত মহোদয়কে অনুরোধ করেছেন। তিনি এতে সম্মতি দিয়েছেন।’
আন্দোলনকারী সংগঠন ‘উত্তর চট্টলা উপকূলীয় মৎস্যজীবী জলদাস সমবায় কল্যাণ ফেডারেশন’র সভাপতি লিটন জলদাস সারাবাংলাকে বলেন, ‘যেহেতু বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত পৌঁছানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, আমরা এই আশ্বাসের উপর আস্থা রাখতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপর আমাদের শতভাগ আস্থা আছে।’
উল্লেখ্য, ২০ মে থেকে শুরু হওয়া সাগরে মাছ ধরা বন্ধের এই সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে ২৩ জুলাই। জেলেদের দাবি, গত সাতবছর ধরে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে এই নিষেধাজ্ঞা চললেও এবার প্রথমবারের মতো ছোট নৌকা ও জাল দিয়ে মাছ ধরা জেলেদেরও এর আওতাভুক্ত করা হয়েছে। এতে নগরীর পতেঙ্গা থেকে সীতাকুণ্ড পর্যন্ত সাগরতীরের ৩৮টি জেলেপল্লীর প্রায় ৫৩ হাজার পরিবার মারাত্মক অনটনে পড়েছে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: