মাশরাফির সমালোচনার পর বদলি হওয়া চিকিৎসক ‘প্রতিবাদ করে যাবেন’

নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার সমালোচনা করা চিকিৎসক একে এম রেজাউল করিম জানিয়েছেন তিনি অন্যায়ের প্রতিবাদ করে যাবেন। তিনি টেকনাফের জনপ্রিয় শিক্ষক, ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মাস্টার আবদুর শুক্কুরের সন্তান।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের পেডিয়াট্রিক হেমাটোলজি অ্যান্ড অনকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এ কে এম রেজাউল করিমকে রাঙামাটি বদলি করা হয়।
তিনি নিজেই বৃহস্পতিবার ফেসবুকে পোস্ট দেন এ বিষয়ে।
তিনি বলেছেন, যে পরিস্থিতিতে তার বদলি হয়েছে তা স্বাভাবিক নয়।
অধ্যাপক ডা. এ কে এম রেজাউল করিম বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ হেলথ সার্ভিসে হাজার বিশেক চিকিৎসক কর্মরত আছেন, তাদের মধ্যে পেডিয়াট্রিক হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিষয়ে মাত্র ৩ জন অধ্যাপক চাকুরিরত আছেন। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেলে যোগ দেবার পর পেডিয়াট্রিক হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিভাগ সত্যিকার কার্যক্রম শুরু করে।
তিনি আরো জানান, চট্টগ্রাম এলাকার শত শত শিশু ক্যান্সার ও রক্তরোগাক্রান্ত শিশু সরকারি হাসপাতালে সেবা পাচ্ছে। শিশু ক্যান্সার আক্রান্তদের ঢাকা বা বিদেশগামীতা অনেকাংশেই হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে শতাধিক শিশু ক্যান্সার রোগী তার অধীনে চিকিৎসাধীন আছে। এমতাবস্থায় তার বদলি এই শিশুদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে।
অধ্যাপক রেজাউল করিম বলেন, প্রিয় সহকর্মীবৃন্দ, আমার অনাকাঙ্খিত বদলি নিয়ে কিছু লিখার ইচ্ছা একেবারেই ছিল না। বদলি হবে আমি জানতাম, কারণ ক্রিকেটার মাশরাফি ইস্যুতে যে ৬ জনকে শোকজ করা হয়েছে তাদের দু জনকে একমাস আগেই দুর্গম স্থানে বদলি করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘দুজন সহযোগী অধ্যাপকের বদলির বিষয়টি জানার পর বিএমএ মহাসচিব, স্বাচিপ সভাপতি ও মহাসচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আমরা বদলি বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করি। তারা কি করেছেন জানি না, তবে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে গতকাল বদলির আদেশ পেলাম।’
অধ্যাপক এ কে এম রেজাউল করিম বলেন, চিকিৎসা তার পেশা এবং নেশা। তার জীবনের সিংহভাগ সময়ই গেছে এই পেশায় উৎকর্ষ সাধনের চেষ্টায়। তাই চিকিৎসকদের জন্য তার আমৃত্যু ভালবাসা থাকবে। কেউ চিকিৎসক সমাজকে অন্যায় আক্রমণ করলে স্বাভাবিকভাবেই তার মন ভারাক্রান্ত হবে এবং নিজের সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিবাদ করবেন।
নিজের বদলির বিচারের ভার সময়ের উপর ছেড়ে দিয়ে তিনি বলেন, প্রিয় চিকিৎসক ভাই বোনেরা, আমি কোনো সরকার বা রাষ্ট্রবিরোধী কাজ করিনি, কোনো দুর্নীতি করিনি, কোনো সন্ত্রাসী কাজে লিপ্ত হইনি। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমি সাংসদ মাশরাফি ভার্সেস নড়াইলের চিকিৎসকদের ইস্যুতে অন্য এক চিকিৎসকের পোস্টে একটি কমেন্ট করেছি। আমাকে শোকজ করা হয়েছে, যার উত্তর আমি দিয়েছি। চাকরিবিধি অনুযায়ী আমি কোনো শাস্তিযোগ্য অপরাধ করিনি।

Leave a Reply

%d bloggers like this: