যে কারণে এই নৃশংস হত্যা

বরগুনায় দিনে-দুপুরে সবার সামনে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। এসময় তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তার স্ত্রী।
বুধবার (২৬ জুন) সকালে, বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে, কুপিয়ে হত্যার ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
স্বজনদের অভিযোগ, স্ত্রীকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ ও মাদক ব্যবসায় বাধা দেয়ার জেরেই এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে।
নৃশংসভাবে কোপানোর ভিডিওটি বুধবার সকালের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহুর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়।
ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে, ধারালো রামদা দিয়ে সদর উপজেলার বড় লবণখোলা গ্রামের শাহ নেওয়াজ রিফাত শরীফকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে দুই যুবক।
এসময় তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা বারবার প্রতিহতের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এলোপাতাড়ি কোপানোর পর রিফাতকে ফেলে পালিয়ে যায় দুই হামলাকারী। গুরুতর আহত অবস্থায় রিফাতকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল ভর্তি করা হয়।
পরে তাকে বরিশালের শেবাচিম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিফাতের মৃত্যু হয়।
ডা.মফিজুল ইসলাম বলেন, মাথায় ও ঘাড়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। যেহেতু এটা পুলিশ কেস সেহেতু ময়নাতদন্তের পর বাকিটা জানা যাবে।
স্বজনদের দাবি, স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকাকে কলেজে পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন রিফাত। এসময় তার ওপর অতর্কিত হামলা হয়েছে।
অভিযুক্ত মাদক ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সময় আয়েশাকে উত্যক্ত করত বলে অভিযোগ তাদের।
এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের লাশ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছিলেন বলে জানান এলাকাবাসী।
স্বামীকে বাঁচাতে পারলেন না স্ত্রী, কোপানোর দৃশ্য দাঁড়িয়ে দেখল সবাই!
বরগুনায় দিনদুপুরে রাস্তায় মানুষের সামনে শাহ নেয়াজ রিফাত (২৫) নামে এক যুবককে রাম দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি ওই দুই খুনিকে ঠেকানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। স্ত্রীর সামনেই দুই যুবকের এলোপাতাড়ি কোপে মারা যান রিফাত।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার ভিডিওতে যে দুই যুবককে দেখা গেছে তাদের একজনের নাম নয়ন বন্ড এবং আরেকজন রিফাত ফরাজী। তারা ছিনতাই ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্মে জড়িত। এসব ঘটনায় তারা একাধিকবার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন।
বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবীর হোসেন মাহমুদ বলেন, যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ আমাদের কাছে আছে। অভিযান চলছে, দ্রুতই তাদের গ্রেফতার করা হবে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: