রিফাতকে বাঁচাতে এগিয়ে যান ছাত্রদল নেতা

প্রকাশ্যে দিবালোকে স্বামীকে কোপাচ্ছে সন্ত্রাসীরা। স্বামীকে বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা করেন স্ত্রী আয়েশা আক্তার মিন্নি। তবে কেউ’ই যে রিফাতকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেননি তা সঠিক নয়, হামলাকারীদের নিবৃত করতে এগিয়ে গিয়েছিলেন এক ছাত্রদল নেতা। তিনি বরগুনা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি নুরুল ইসলাম রনি।
বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) স্ত্রী আয়েশা আক্তার মিন্নিই সাংবাদিকদের এতথ্য জানান। তার দাবি- রনি’র মতো আরও কেউ এগিয়ে আসলে হয়তো প্রাণে বাঁচতে তার স্বামী।
মিন্নি কাঁন্না জড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের বলেন, ‘রনির ভাইয়ের মতো আরও ৫ জন এগিয়ে এলে আমার স্বামী রিফাত শরীফ বাঁচত। তার স্বামীকে যখন কোপানো হয় তখন পাশে যারা ছিলেন তাদের মধ্যে কয়েকজন হামলাকারী।
সবাই নীরবে দাঁড়িয়ে থাকলেও নিজে থেকে রিফাতকে বাঁচাতে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে নুরুল ইসলাম রনি বলেন, সবাই দাঁড়িয়ে হত্যাকাণ্ড দেখবে সেটা কখনো হয় না। আমি যেহেতু মানুষ সেই হিসেবে আমার দায়িত্ব পালন করেছি। যতটুকু পেরেছি ততটুকু করেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা করতে পারলাম না রিফাত শরীফকে।
রনিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বরগুনা জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ। তিনি বলেন, শহীদ জিয়ার আদর্শের ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মানুষের বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়ে। হোক বিপদে পড়া ব্যক্তিটি অন্য মতাদর্শ রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্য, এটাই মানবিকতা।
উল্লেখ্য, বুধবার (২৬ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রাম দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী আয়শা আক্তার মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও তাদের দমাতে পারেননি। একাধারে রিফাতকে কুপিয়ে বীরদর্পে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ত্যাগ করে হামলাকারীরা। পরে গুরুতর আহত রিফাতকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

Leave a Reply

%d bloggers like this: