শতভাগ ভোট অস্বাভাবিক, তবে ইসির ‘করার কিছু নেই’

কোনো নির্বাচনে শতভাগ ভোট পড়াকে অস্বাভাবিক মানলেও নির্বাচন কমিশনের কিছু করার নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা।
গত ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে দুই শতাধিক কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়ার খবর এসেছে গণমাধ্যমে। নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা পড়া তথ্যেই এই খবর এসেছে।
রবিবার রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে এই বিষয়টি নিয়ে সিইসিকে প্রশ্ন রাখেন গণমাধ্যমকর্মীরা। জবাবে তিনি বলেন, ‘শতভাগ ভোট পড়া কোনও স্বাভাবিক ঘটনা নয়, তবে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের করণীয় কিছু নেই।’
নির্বাচন কমিশনের কেন করার নেই সে ব্যাখ্যাও দেন নুরুল হুদা। বলেন, ‘ভোটের পরপরই গেজেট আকারে ফল প্রকাশ হয়ে যায়। গেজেট প্রকাশের পর ইসির কিছু করার থাকে না। তাই খতিয়ে দেখার সুযোগ নাই। প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, রিটার্নিং কর্মকর্তা যেহেতু এ বিষয়ে আগে কিছু জানাননি, তাই এখন ইসির কিছু করার নেই।’
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন তার ওয়েবসাইটে একাদশ সংসদ নির্বাচনের কেন্দ্রভিত্তিক ফল প্রকাশ করেছে। এতে দেখা গেছে, ৪১ হাজার ১৫৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ২১৩টিতে শতভাগ ভোট পড়েছে। ৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছে ১২৭টি কেন্দ্রে। অন্যদিকে, ১০ শতাংশের কম ভোট পড়েছে ১১টি কেন্দ্রে।
এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৮০ শতাংশ। পরাজিত জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দাবি, এই হারে ভোট বিশ্বাসযোগ্য নয়। আগের রাতে কেন্দ্র দখল করে সিল মেরে বাড়ানো হয়েছে ভোটের সংখ্যা। তবে বিজয়ী আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট বলছে, সরকারের উন্নয়ন এবং বিরোধীদের ধ্বংসাত্মক রাজনীতির কারণে এই ফলাফল হয়েছে।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৬০টি আসন পেয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে। তাদের জোটসঙ্গী জাতীয় পার্টি এবং ১৪ দল মিলিয়ে জিতেছে ২৮৯টি আসনে।
অন্যদিকে বিএনপি আসন পেয়েছে ছয়টি। আর তাদের জোটসঙ্গী গণফোরাম জিতেছে দুটিতে। আর স্বতন্ত্র এবং অন্যরা জিতেছেন তিনটি আসনে।
বিএনপি বলছে, এই নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। ভোটের ফল না মেনে আদালতে যাওয়ার পাশাপাশি আন্দোলনের ঘোষণাও দিয়েছিল তারা। এই ফলাফল না মেনে শপথ না নেয়ার ঘোষণাও এসেছিল। তবে পরে তারা শপথ নেয়। আর আদালতেও যাননি পরাজিতরা।
সিইসি বলছেন, আদালতে মামলা করলে আদালত যদি নির্বাচন বাতিল করে, আবার নির্বাচন দিতে বলে সেটি আদালতের এখতিয়ার। এখানে তাদের কিছু করার নেই।

Leave a Reply

%d bloggers like this: