সৈকত থেকে বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির বছরে আয় ১০ কোটি!

সমুদ্রকন্ঠ রিপোর্ট::
পর্যটন রাজধানি খ্যাত কক্সবাজারে বছরে কোটি পর্যটক আসে বেড়াতে।এখানে বেড়াতে আসা পর্যটকরা মনের প্রশান্তির জন্য প্রথমে ছুটে যান সমুদ্র সৈকতে।আগত পর্যটকদের ভ্রমন আনন্দময় করার জন্য বীচের সৌন্দর্য্য ও উন্নয়ন কাজের জন্য রয়েছে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি। ওই কমিটির কোনো ব্যয়খাত না থাকলেও বীচে ঝুঁপড়ি,স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকানের জন্য কার্ড বরাদ্দ দিচ্ছে। কার্ড বরাদ্দের আনুমানিক হিসেবে গড়ে বছরে ওই কমিটি শুধুমাত্র বীচের ভাসমান দোকান থেকে ১০ কোটি আয় করছে।
সরজমিনে বীচের একাধিক ব্যবসায়ীর বরাতে জানা যায়,বৈধ দোকানের জন্য একটি কার্ড পেতে বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটিকে অফিসিয়ালি দিতে হয় ২০ হাজার টাকা।নানা ঝামেলা পোহানোর পর ওই টাকা দিয়ে কার্ড পেলেও পরবর্তিতে দোকান বসাতে প্রশাসনের বিভিন্ন ব্যক্তি ও বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যদের আরো ৫০/৬০ হাজার টাকা দিতে হয় কার্ডধারিদের।এছাড়া অবৈধভাবে বীচে দোকান বসাতে ১ লক্ষ থেকে দেড়লক্ষ টাকা কর্তা বাবু,এরপর সমিতির নামে নেতাদের দিতে হয় টাকা।এ হিসেব অনুযায়ি বীচে বর্তমানে দেড় হাজার কার্ড দেয়া হয়েছে।যার বাৎসরিক আনুমানিক আয় ১০ কোটি টাকার অধিক।এক সূত্রে জানা যায়,বছরে বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির এতো টাকা আয় হলেও তাদের ব্যয়খাতে কোনো হিসাব নেই।মাঝে মধ্যে ওই কমিটির দুই একটা সভা ছাড়া বীচে পর্যটকের স্বার্থে কোনো কাজ করছে এমন কোনো নজির নেই।

এদিকে,অনেক ব্যবসায়ীকে কার্ড দিলেও জায়গার অভাবে তারা দোকান বসাতে পারছে না।আর প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় দিনদিন বীচে ঝুঁপড়ি দোকান বাড়ছে।এতে ধারনা করা হচ্ছে ওই কমিটি বীচের উন্নয়নে কোনো কাজ না করলেও কার্ড বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে ঠিকই।এজন্য কক্সবাজারের সচেতন মহল ওই কমিটিকে অকার্যকর বলে তা বাতিলের দাবি করেন।

এপ্রসঙ্গে আমরা কক্সবাজারবাসী আন্দোলনের নেতা নাজিম উদ্দিন বলেন,বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি পুরোপুরি ব্যর্থ ।বীচের উন্নয়নের তাদের কোনো ভ’মিকা নেই।বরং তাদের আয়ের খাত বড় হলেও ব্যয়ের কোনো খাত চোখে পড়ছে না।

এব্যাপারে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো:কামাল হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি দৈনিক সমুদ্রকন্ঠকে বলেন,কার্ড বাবদ নেয়া টাকা রাজস্বখাতে যাচ্ছে।কার্ড বাণিজ্য করে কমিটির লোকজন লাখ টাকা আদায় করে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন বিষয়টি তাঁর জানা নেই,তবে তা হতোও পারে।এছাড়া তিনি বীচে অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করে সেগুলো উচ্ছেদ করে সৈকত দখলমুক্ত করা হবে বলে জানান।

Leave a Reply

%d bloggers like this: