আইসে ঝুঁকছে উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরা

ক্রিস্টাল মেথ বা আইস। এ মাদক দেখতে অনেকটা চিনির দানার মতো। এটি অন্য যেকোন মাদকের চেয়ে ভয়াবহ বলে মাদক বিশেষজ্ঞরা বলছেন। নতুন এ মাদকে আসক্ত হচ্ছেন অভিজাত বা উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরা।
২৭ ফেব্রুয়ারি প্রথমে আইএস এর সন্ধান পায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোয়েন্দা ইউনিট। জিগাতলার একটি বাসার বেজমেন্টে আইস তৈরির কারখানার মেলে। এখানে আইস তৈরি করতে গোপনে করা হয় একটি ডিজিটাল ল্যাব। যার মালিক হাসিব মোহাম্মদ শরীফ।
এ বিষয়ে তদন্তে অধিদপ্তরের গোয়েন্দারা মাঠে নামেন। মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ি, উত্তরা, ভাটারা, গুলশান এলাকায় বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা সবাই আইস বিক্রেতা। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে আইস পাওয়া যায়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরেরর তত্ত্বাধায়ক (গোয়েন্দা) ফজলুর রহমান খান বলেন, ‘সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশের পর তদন্তে দেখা যায়, আইস বহন সহজ হওয়ায় অনেকেই ইয়াবা ব্যবসার আড়ালে আইস এর ব্যবসা করছে। এক গ্রাম আইস ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বিক্রি করা যায়। লাভের পরিমাণও বেশি। এর ক্রেতা উচ্চবিত্ত পরিবারের তরুণরা। মূলত এসব কারণে আইসের ব্যাপকতা গোপনে বেড়ে গেছে। তবে এ মাদক নির্মূলে আমরা নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’
আইস কি এ দেশেই তৈরি হচ্ছে?- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আপাতত দৃষ্টিতে তা মনে হচ্ছে না। ব্যাংকক, মালয়েশিয়া, ভারত, উগান্ডা, কেনিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, মায়ানমার থেকে গোপনে এ মাদক আসছে। এরা আবার পেশাদার মাদক বিক্রেতাও। নাইজেরিয়ান নাগরিকসহ কয়েকজন আসামি রিমান্ডে এমন তথ্য দিয়েছে।’
এক হিসাবে দেখা গেছে, সারাদেশে মাদক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৭০ লাখের কাছাকাছি। এর মধ্যে অনেকেই আইস সেবন করছে। নতুন এ মাদকের অস্তিত্ব জানাজানি হলে কারা কিভাবে আনছে এবং এর ক্রেতা কারা তার তদন্তে নামে সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা।
একটি সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, উত্তরাসহ অভিজাত এলাকার উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের কাছে এ মাদক বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বড়-বড় সরকারি কর্মকর্তা, শিল্পপতি বা রাজনীতিকের ছেলেরা মূলত এর প্রধান ক্রেতা। কেননা সর্বনি¤œ এক গ্রাম আইস কিনতে অনেক টাকা গুণতে হয়। যা কেবলমাত্র এরাই কিনতে পারেন। এদের বেশিরভাগ আবার কলেজ বা বিশ^বিদ্যালয় ছাত্র।
আইস সেবন বা ব্যবহার করলে রাতারাতি পরিবর্তন আসে। কেননা এটি উচ্চমাত্রার ড্রাগ বলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক এবং মাদক বিশেষজ্ঞ আবু তালেব জানান।
তিনি বলেন, ‘এটি সেবন করলে এক নাগারে ২/৩ রাত ঘুম হয় না। দেরি করে ঘুমায়, উঠেও আবার দেরিতে। এক সময় তার মুখ অস্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করবে। অল্প বয়সে দাঁত পড়ে যাবে। উচ্চ মাত্রার এ ড্রাগ ব্যবহারে মানুষকে দ্রুত মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়। যেখান থেকে ফেরার সুযোগ থাকে না।’
মাদকাসক্ত বিষয়ক গবেষক এমদাদুল হক বলছেন, ‘ইয়াবায় এমফিটামিন থাকে পাঁচ ভাগ। ক্রিস্টাল মেথ বা আইসের পুরোটাই এমফিটামিনে ভরপুর থাকে। এ কারণে এটি ইয়াবার চেয়ে অনেকগুণ বেশি ক্ষতিকর। আইস একবার সেবন শুরু করলে এ মাদকে নির্ভরতা চলে আসে। যা মারাত্মক হুমকিও বটে।’

Leave a Reply

%d bloggers like this: