উইঘুর মুসলিমবিরোধী নীতিকে সৌদিসহ ৩৭ দেশের সমর্থন

চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের ১০ লাখের বেশি উইঘুর মুসলিমকে বন্দিশিবিরে আটকে রাখার যে নীতি বেইজিং গ্রহণ করেছে তাকে সমর্থন করে সৌদি আরব ও রাশিয়াসহ ৩৭টি দেশ। যদিও পশ্চিমা দেশগুলো চীনের এই নীতির কঠোর সমালোচনা করে আসছে।
জাতিসংঘে লেখা এক চিঠিতে চীনের ওই নীতিকে সমর্থন জানিয়েছে দেশগুলো। চিঠির একটি কপি হস্তগত হয়েছে বলে দাবি করেছে বিট্রিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব ছাড়া চিঠিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে- রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া, ভেনিজুয়েলা, কিউবা, বেলারুশ, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, সিরিয়া, পাকিস্তান, ওমান, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন। এ ছাড়া আফ্রিকার বেশ কিছু দেশের রাষ্ট্রদূতরাও ওই চিঠিতে সই করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এদিকে, চলতি সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি ও জাপানসহ ২২টি দেশ চীনের ওই নীতির সমালোচনা করে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনে একটি চিঠি দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, জিনজিয়াং প্রদেশে ১০ লাখেরও বেশি উইঘুর মুসলিমকে বন্দিশিবিরে আটকে রেখেছে চীন। সর্বশেষ খবরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো দাবি করেছে, মুসলিম শিশুদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখছে বেইজিং। তাদের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন ও নীপিড়ন এবং নিজস্ব ধর্ম-সংস্কৃতি পালন না করতে দেওয়ার অভিযোগ আগে থেকেই রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার গুরুতর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় চীন জিনজিয়াংয়ে সন্ত্রাসবাদ ও মৌলবাদবিরোধী নানা ধারাবাহিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব পদক্ষেপের একটি হচ্ছে- বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন।
চিঠিতে দাবি করা হয়, জিনজিয়াংয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ফিরে এসেছে। সেখানকার সব জনগোষ্ঠীর মৌলিক মানবাধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। গত তিন বছরে সেখানে কোনো সন্ত্রাসী হামলা ঘটেনি। ফলে মানুষ নিরাপত্তার সঙ্গে সুখে শান্তিতে বসবাস করছে।
এ ছাড়া উইঘুর নীতির প্রতি সমর্থন জানানো দেশগুলোর চিঠিতে জিনজিয়াংয়ের পরিস্থিতিকে চীনের উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
এদিকে, চীনের পক্ষ থেকে এই চিঠিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। সেইসঙ্গে ওই অঞ্চলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা অস্বীকার করেছে।
তিন সপ্তাহ ধরে চলা মানবাধিকার কাউন্সিলের বৈঠকের সমাপনী সেশনে শুক্রবার চীনা দূত ঝু চেন স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর প্রতি উচ্চ প্রশংসা করেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: