উখিয়ায় জেলা প্রশাসনের চাকরী মেলা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ


সমুদ্রকন্ঠ রিপোর্ট ॥
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উখিয়ায় আলোচিত চাকরি মেলা স্থানীয় শিক্ষিত তরুণদের ক্ষোভ প্রশমনের পরিবর্তে নতুন করে ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি করেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। ক্ষুব্ধ তরুণেরা আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
মেলা বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার জানান, মেলায় ৫ সহস্রাধিক চাকরি প্রার্থী অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করেছিল। সেখান থেকে ৩১৮ জনকে চাকরির জন্য মনোনীত করা হয়েছে। তিনি জানান, বাকীদেরও পর্যায়ক্রমে নিয়োগ দেয়া হবে।
এদিকে,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় চাকরীপ্রার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণীর নাগরিক।
দিলরুবা হাসান লিখেছেন, চাকুরির মেলা সাজিয়ে বহু দূরদূরান্ত থেকে এই ঝড় বাদলের দিনে হাজার হাজার আগ্রহী বেকার যুবক,যুবতী দের উখিয়া জমায়েত করিয়ে বিরাট রকমের প্রহসন করেছে কর্তৃপক্ষ। এই নাটকটা না করলে কার কি এমন ক্ষতি হতো !!!?? বৃষ্টিতে ভিজে দূরদূরান্ত থেকে আসা ছেলেমেয়েরা কোন আশা তো পেলই না,বরং দুর্ভোগের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। যাদের চাকুরীতে নিয়েছে তাদের উচ্চ মহল অনেক আগেই সিলেক্ট করে রেখেছিল। উখিয়ায় আজ যে নাটকটা সাজালো সরলমনা এই ছেলেমেয়েদের অভিশাপ পড়বে। একজনকেও ডেকে ইন্টারভিউ নেননি। ইন্টারভিউর নাম করে ডেকে জমায়েত করে আই ওয়াস করে দিল আর ভোগান্তি বাড়িয়ে দিল।আমাদের স্বাধীন দেশে এটা ছিল ডিজিটাল পদ্ধতিতে ইন্টারভিউ।
জিকে বাপ্পী লিখেছেন, ৩১৮ জনের চাকরি হলে,যারা চাকরি পেয়েছে তাদের তালিকা প্রকাশ করা হোক।
শহিদুল্লাহ শহিদ লিখেছেন,উখিয়াতে জব ফেয়ার নামে স্হানীয়দের সাথে চলছে প্রশাসনের প্রতারনা ও লোক দেখানো চাকরীর মেলা।
ইসমাইল সাজ্জাদ লিখেছেন, চাকরি মেলায় এন.জি.ও দের নিয়োগ প্রহশন।
-মেলায় এন.জি ও কর্মকর্তারা চাকরি প্রার্থীদের বলেছে আমাদের পদ খালী নাই,আপনারা মেলা করলে কি হবে!।
-আজকের নিয়োগ প্রাপ্তদের অধিকাংশ আগের নিয়োগ,তাদের মেলায় রেজিস্টশন করে এন.জি.ও গুলা নতুন নিয়োগ দেখাইছে।
তথ্য সুত্র-চাকরি প্রার্থী এবং চাকরিরত যুবক।
সাহেদ আরমান লিখেছেন, এনজিও গুলো কারনে অকারনে শত শত কোটি টাকা খরচ করতে পারে,এই বর্ষার দিনে হাটু সমান পানিতে মেলা না করে কোন হোটেলের অডিটোরিয়াম করলে কি এমন টাকা খরছ হতো?
সাইফুদ্দিন খালেদ লিখেছেন, এলাকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা এসব অনিয়মের প্রতিবাদ কেন করেনা কিংবা তারা কি প্রতিবাদ করতে জানেনা অথবা নাকি নিজের কোন অদৃশ্য দুর্বলতা প্রকাশ পাবে ভয়ে ঝামেলায় যেতে চাইতেছেনা ? এবং স্থানীয় রাজনৈতিক সিনিয়র নেতাদের এব্যাপারে জনগনের প্রতি কোন জবাবদিহিতা আছে কিনা? তাদের ভুমিকা কি?
স্থানীয়দের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চাকুরী অনুগ্রহ নয়, এটা অধিকার। অধিকার আদায়ে সিনিয়রদের কথা বলা উচিত। এবং সাংবাদিক সমাজের প্রতি অনুরোধ যদি অনিয়ম হয়, জাতীর সামনে সত্য তুলে ধরে ভুমিকা রাখবেন আশা করি। অন্যথায় মানুষ আপনার প্রতি আশা ভরসা হারিয়ে ফেলবে!
সাজেদুল ইসলাম লিটন লিখেছেন, উখিয়ায় চাকরী মেলায়। চাকরী হওয়া ৩১৮ জনের নাম,ঠিকানা প্রকাশ করুন।না হয় ৮/০৭/১৯ তারিখ থেকে চাকরী প্রাপ্তিরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে।
আবু হোসেন আবু লিখেছেন, উখিয়ার শিক্ষিত বেকার যুবক,যুবতীর আন্দোলনের ফসল শান্তনা পূরস্কার আই ওয়াশ! ধন্যবাদ চাকুরীর মেলা আয়োজক কমিটি।
ইয়াসিন আরাফাত লিখেছেন, কি যে চাকরি মেলা শুধু প্রতরণা ছাড়া আর কিছু না। ৩১৮ টা পোষ্ট কিন্তু টেকনাফের একটা ছেলেও চাকরি পেল না।
সোহেল রানা লিখেছেন, এমন মেলা যেন কক্সবাজারে আর না হয় ভাইয়া যে মেলাতে হাজার হাজার ছেলে মেয়েকে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে রেখে রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়া না হয়।
যুবরাজ জুয়েল লিখছেন,আমার একটা সাধারন প্রশ্ন 😅
যেভাবে দোকানপাট দেখা যাচ্ছে মনে হচ্ছে, অন্যান্য মেলার মত জিনিসপত্র বিক্রি করতেছে !! আমার ছোট প্রশ্নটা হল এই মেলায় কি চাকরি বিক্রি করতেছে নাকি দক্ষতা ও চাকরি উন্নয়ন মেলা বলে কক্সবাজারের জনগোষ্ঠীকে ধোকা দিচ্ছে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: