এরশাদকে নিয়ে গুজব না ছড়াতে ভাই কাদেরের আকুতি

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে নিয়ে কোনো গুজব না ছড়াতে বা ‘না জেনে’ লেখালেখি না করতে বলেছেন ছোট ভাই জি এম কাদের। বলেছেন, চিকিৎসার অগ্রগতি নিয়ে তারাই আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেবেন। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও জানানো হবে।
সাবেক সেনা শাসকের মৃত্যু নিয়ে আগের রাতে গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার দুপুরে বনানীতে সংবাদ সম্মেলন ডাকেন জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
জি এম কাদের বলেন, ‘কিছু মানুষ অযথা অনেক গুজব ছড়ায়। যাদের মধ্যে উৎকণ্ঠা, উত্তেজনা বাড়িয়ে দিচ্ছে।’
‘আমাদের যে বক্তব্য, এগুলো বাইরে আর কোনো বক্তব্য আপনারা নিজে থেকে প্রচার করবেন না দয়া করে। আপনাদের সাংবাদিক বন্ধুদের শুধু বলছি না, বাকি সবাইকে বলছি। ফেসবুকের মাধ্যমে যেন এগুলো অযথা কোনো সংবাদ দেওয়া না হয়। আমরা তার স্বাস্থ্য সম্পর্কে যতটুকু সম্ভব, কারিগরি বা টেকনিক্যাল বিষয়গুলোও যতটুকু সম্ভব জানিয়ে দেব। আপনাদেরকে অবহিত করব।’
আপনাদেরকে অনুরোধ এই যে, না জেনে, না বুঝে কোনো খবর দেবেন না। সারাদেশের মানুষ এটাতে অনেক কষ্ট পাচ্ছে। অনেক ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
কতটুকু সম্ভব নিজেরাই এরশাদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে সঠিক তথ্যগুলো পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও জানান তার ছোট ভাই। বলেন, ‘আমরা সিএমএই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করেছি। ওনারাও আইএসপিআরের মাধ্যমে ওনাদের তরফ থেকে এই সংবাদগুলো প্রচার করার চেষ্টা করবে যখন দরকার হবে।’
কোনো বক্তব্য না এলে কী বুঝতে হবে, সেটাও জানান কাদের। বলেন, ‘আর যখন কোনো সংবাদ না পান, তখন বুঝবেন যে ওনার অবস্থা আগের মতো আছে, ভালো আছে। যখন কোনো সমস্যা হয়, সংকট হয়, তখন আপনাদেরকে জানানোর চেষ্টা করব।’
‘এটা আপনাদেরকে বুঝতে হবে পরিস্কারভাবে যে, ওনি শঙ্কামুক্ত নন। ওনার বয়স এবং ওনার যে সমস্যা এবং জটিলতা, সব মিলিয়ে ডাক্তাররা এখনো ওনাকে নিবিঢ়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। আমরা আশাবাদী যে ওনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। দেশ ও জাতির মঙ্গলের জন্য আবার নিজেকে নিয়োজিত করতে পারবেন।’
এরশাদের মৃত্যু নিয়ে একজন রাজনৈতিক নেতার স্ট্যাটাস নিয়ে প্রশ্ন করলে জি এম কাদের বলেন, ‘এই বিষয়টা আমি আপনাদেরকে বলেছি, আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করব, যেন কোনো স্ট্যাটাস কেউ দেবেন না। আর যার স্ট্যাটাস এসেছে বলা হচ্ছে, সেটা ওনাদের নাও হতে পারে। অনেক সময় দেখা যায় যে, আইডি ফেইক (ভুয়া) হয়। অনেক সময় দেখা যায় এক জনের আইডি আরেকজন চালাচ্ছে। ব্যস্ততার জন্য অনেকে নিজে চালাতে পারেন না। যাই হোক। এটা যাতে ভবিষ্যতে না হয়, সে জন্য আমরা অনুরোধ করব।’
৯০ এ পা দেওয়া এরশাদ গত বুধবার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি হন। আর তার জীবন সংকটাপন্ন বলে দলের বিভিন্ন নেতাদের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। এমনও খবর এসেছে যে, তাকে লাইফ সাপোর্টে আছেন।
কেমন আছেন এরশাদ?
এরশাদ আসলে কেমন আছেন- জানতে চাইলে জি এম কাদের বলেন, ‘ডাক্তারদের ভাষায় শারীরিক অবস্থা এখন আগের দিনের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে। অর্থাৎ অপরিবর্তিত আছে। ওনাদের ভাষায় এই অপরিবর্তিত থাকা শুভ লক্ষণ। যেহেতু ওনারা শঙ্কা করছিলেন যে, অবস্থার অবনতি হতে পারে। অবনতি যখন হয়নি, স্থিতিশীল আছে, এটা হলো শুভ লক্ষণ।’
‘আরো স্পেসিফিকেলি বলতে গেলে, ওনার গতকাল যে লাংসে ইনফেকশন যতটুকু দেখা গিয়েছিল, আজকে সকালে দেখা যাচ্ছে ইনফেকশনটা একটু কমের দিকে। গতকাল যে ওনার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল, ওনাকে অক্সিজেন আন্ডার প্রেসার দিতে হতো। এখন ওনারা দুই ঘণ্টা আন্ডার প্রেসার অক্সিজেন দিচ্ছেন, দুই ঘণ্টায় নরমাল অক্সিজেন দিচ্ছেন। ওনারা বলছেন যে, এই ট্রেন্ড চালু থাকলে কিছুক্ষণ পর ওনাকে স্বাভাবিক অক্সিজেন দেওয়া হবে। এবং তারপরে যখন ইমপ্রুভমেন্ট হবে, অক্সিজেন থেকে স্বাভাবিকভাবে ওনাকে শ্বাস প্রশ্বাস ওনি করতে পারবেন। ওনার কিডনিতে ইনফেকশন একটু বেশি হয়েছে, বা কিডনি ফাংশানে একটু সমস্যা হচ্ছে। ডাক্তাররা এখন সেদিকে দৃষ্টি রাখছেন।’
‘এই বিষয়ে সার্বিকভাবে বলতে গেলে, ওনাদের কথায় ওনার অবস্থা অপরিবর্তিত। যেগুলো কমপ্লিকেসি ওনার মেজর ছিল, সেটা কমে আসছে। সামান্য কিছু কমপ্লিকেসি হচ্ছে। সেগুলোর ব্যাপারে চিকিৎসা চলছে। এবং সামনের দিকে ওনি ইনপ্রুভমেন্ট করবেন। প্রতিদিনই।’
এরশাদকে বিদেশে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না- জানতে চাইলে জি এম কাদের বলেন, ‘এই মুহূর্তে ওনাকে (এরশাদ) কোথাও শিফট করাটা ওনারা (ডাক্তার) সাজেস্ট করছেন না। ওনি যে পজিশনে চিকিৎসাধীন আছেন, ওনারা মনে করেন না যে, এই মুহূর্তে ওনাকে অন্য কোথাও শিফট করা সঠিক কোনো সিদ্ধান্ত হবে। অথবা ওনার এখানে যে চিকিৎসা হচ্ছে, সেটা যথেষ্ট সেটিসফ্যাক্টরি হচ্ছে বলে ওনারা মনে করেন।’
‘সিএমএইচ কর্তৃপক্ষ বলছে, ওনাকে এই মুহূর্তে শিফট করাটা ওনাদের মতে সঠিক হবে না। তবে এটা আমাদের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। এটা আমাদের বিষয়। আমরা ডাক্তারদের পরামর্শ ছাড়া, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের সিদ্ধান্তে যাব না।’
‘ডাক্তাররা বলেছেন, ওনি কিছুটা ড্রাউজিনেসের মধ্যে আছেন। বিভিন্ন মেডিকেশনের কারণে, শারীরিক অবস্থার কারণে আধা ঘুম, আধা জাগা অবস্থায় যাকে বলেন। এই ধরনের অবস্থায় আছেন।’
হাসপাতালে এরশাদের সঙ্গে কথা হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নে তার ভাই বলেন, “আমরা যাওয়ার পরে আমি কথা বললাম, ‘ভাই আপনি কেমন আছেন?’। তারপরে ওবায়দুল কাদের সাহেব যখন এসেছেন, তখন ডাক্তরা বলছেন, ‘স্যার, আপনার জন্য মন্ত্রী এসেছেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এসেছেন।’ তখন ওনি চোখ মেলে জেগেছেন। ওনি কোনো কথা বলতে পারেননি। যেহেতু ওনার মুখের মধ্যে অক্সিজেনের নল আছে।”
‘সেন্স এখনো আছে, এটা বোঝা গেল।’

Leave a Reply

%d bloggers like this: