এরশাদকে ‘সেনাশাসক ও স্বৈরাচার’ পরিচয়েই চেনে বিশ্ব গণমাধ্যম

বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে সংবাদ ছাপিয়েছে বিশ্বের প্রথম সারির সংবাদ মাধ্যমগুলো। তবে সেসব প্রতিবেদনে এরশাদকে ‘সেনাশাসক ও স্বৈরাচার’ হিসেবেই উপস্থাপন করা হয়েছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, আল-জাজিরা, ভারতের এনডিটিভি ঘেঁটে জানা যায় এরশাদের বিতর্কিত রাজনৈতিক ভূমিকার ফিরিস্তি তুলে ধরেছে এসব পত্রিকা।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের সংবাদের শিরোনাম দিয়েছে, ‘বাংলাদেশের সাবেক স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদ ৮৯ বছর বয়সে মারা গেছেন।’
তাদের সংবাদের প্রথম অংশেই বলা হয়, বাংলাদেশের সাবেক সেনানায়ক যিনি ১৯৮২ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতা দখল করেছিলেন, তিনি ৮৯ বছর বয়সে মারা গেছেন।
বেশ কিছুদিন ধরে এরশাদের ক্রমাবনতি হওয়া শারীরিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, এরশাদ ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দেশ শাসন করেছেন।
এছাড়া, এরশাদের রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টি গঠন ও ১৯৮৬ সালের ‘বিতর্কিত’ নির্বাচনের কথাও ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সেই নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি আবির্ভূত হয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট রূপে।
তবে এরশাদ বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদের উন্নয়ন করেছেন বলেও প্রতিবেদনা বলা হয়।
আল-জাজিরার খবরেও শিরোনাম করা হয়, ‘বাংলাদেশের সাবেক সেনাশাসক এরশাদ ৮৯ বছর বয়সে মারা গেছেন।’
এরশাদের জোর করে ক্ষমতা দখলের কথা জানিয়ে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, গণ-অভ্যুত্থানের মুখে এরশাদ ১৯৯০ সালে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। দুর্নীতির দায়ে এরশাদ জেলও খাটেন।
আল-জাজিরা আরও জানায়, এরশাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক আমলে দেওয়া অন্তত এক ডজন মামলা রয়েছে। বিতর্কিত অতীত সত্ত্বেও এরশাদ বাংলাদেশের রাজনীতিতে সরব উপস্থিতি জানান দিতে সক্ষম হয়েছেন।
এদিকে, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিও তাদের খবরে এরশাদকে সাবেক সেনাশাসক হিসেবে উল্লেখ করেছে, যে কি না প্রায় এক দশক ক্ষমতা দখল করে ছিল। বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এরশাদের শাসনামলেই হয়েছিল বলে রিপোর্টে জানায় এনডিটিভি।
এতকিছুর মাঝে এরশাদের কবি সত্ত্বাও চোখ এড়ায়নি পত্রিকাটির!
এদিকে এরশাদের মৃত্যু শোক জানিয়ে টুইট করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর। বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে তার অবদান এবং বাংলাদেশে জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য এরশাদ স্মরণীয় হয়ে থাকবেন বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

%d bloggers like this: