কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেছেন জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারা কুনো। মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজার বিমানবন্দরে নেমে সরাসরি কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন তিনি।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে প্রথমে কুতুপালং ৪ নম্বর রোহিঙ্গা শিবিরে ‘ইউএনএইচসিআর’ পরিচালিত বিভিন্ন ত্রাণকেন্দ্রে যান এবং যাবতীয় বিষয়ে খোঁজখবর নেন তারা কুনো। এরপর ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জাপান সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন, রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য ও জীবনমানের বিষয়াদি জানতে চান। একইভাবে বিকেল ৩টার দিকে ১২ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) পরিচালিত পানি বিশুদ্ধকরণ প্রকল্প ঘুরে দেখেন জাপানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা।
কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, শরণার্থী শিবির পরিদর্শনকালে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় শরণার্থী শিবিরের দায়িত্বে নিয়োজিত স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।
এ সময় জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তারা কোনো বলপূর্বক সমাধান চান না। বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের সম্মানের সঙ্গে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বদেশে প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
জাপানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের বোঝা বাংলাদেশের জন্য একটা বিশাল চাপ। এ চাপ সামলাতে বাংলাদেশের প্রতি বিশ্বনেতাদের সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব প্রদর্শনের আহ্বান জানান তিনি।
কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, ইউএনএইচসিআরের কক্সবাজারের প্রধান মারিন, বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শরণার্থী বিষয়ক ডেস্কের পরিচালকসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দাতা সংস্থার কর্মকর্তারা সঙ্গে ছিলেন। পরিদর্শন শেষে বিকেলে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করেন। তবে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি তারো কুনো। ঢাকায় ফিরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এম আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
এর আগে সোমবার রাতে তিন দিনের বাংলাদেশ সফরে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয়) মাহবুব-উজ জামান।

Leave a Reply

%d bloggers like this: