কক্সবাজার জেলায় আওয়ামীলীগের পাঁচ বিদ্রোহী প্রার্থীর সাথে তাদের সহযোগিরাও বহিস্কার হচ্ছেন !

জেলায় আওয়ামীলীগের পাঁচ বিদ্রোহী প্রার্থীর সাথে তাদের সহযোগিরাও বহিস্কার হচ্ছেন !
সমুদ্রকন্ঠ রিপোর্ট::গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের দলীয় সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করছেন তাদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন দলের হাইকমান্ড এমনটি জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এড.সিরাজুল মোস্তফা।শুধু তাই নয় নির্বাচনে তাদের কে যারা সহযোগিতা করেছে ওদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নেয়ার ইঙ্গিত দেন ওই নেতা।
এদিকে, মুঠোফোনে কথা হলে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এড.সিরাজুল মোস্তফা গতকাল রাতে দৈনিক সমুদ্রকন্ঠকে বলেন,উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহীদের বহিষ্কারের বিষয়টি শুনেছি,তবে আমাদের কাছে দল থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কাগজপত্র আসেনি।কাগজপত্র আসলে তারা সংক্রিয়ভাবে দল থেকে বহিষ্কার হয়ে যাবে।তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন,বিদ্রোহী প্রার্থীদের সহযোগিদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারেন।প্রথমে তাদেরকে শোকজ করা হবে।পরবর্তিতে তাদেরকে সাময়িক বহিষ্কার করা যেতে পারে বলে তিনি জানান।

জানা যায়,গত উপজেলা নির্বাচনের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে দলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বদ্বি¦তা করায় কক্সবাজারের পাঁচ জন আওয়ামীলীগ নেতা বহিস্কার হতে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে তিনজন উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় গেছে। বহিস্কারের তালিকায় রয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য সাবেক পৌর চেয়ারম্যান নুরুল আবছার,টেকনাফে উপজেলা আওযামীলীগের সহ সভাপতি জাফর আলম, রামু উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সোহেল সরওয়ার কাজল, মহেশখালীতে উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি শরীফ বাদশা, চকরিয়ায় উপজেলা আওয়ামীলীগ সহ সভাপতি ফজলুল করিম সাঈদী।
আওয়ামীলীগ উপজেলা নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত অমান্যখারী কম পক্ষে দুইশ নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তালিকা প্রণয়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ২০ জুলাইয়ের পর ধাপে ধাপে এসব বিদ্রোহী প্রার্থী বরাবর সাময়িক বহিস্কারাদেশের চিঠি প্রেরণ করবে দলটি। একই সঙ্গে কেন স্থায়ী ভাবে বহিস্কার করা হবেনা তা জানতে চেয়ে পাঠানো হচ্ছে শোকজ নোটিশ। এছাড়া সহযোগী ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের শতাধিক নেতা উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন। তাদেরও শাস্তির আওতায় আনতে সংগঠন গুলোর কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশ দেবে আওয়ামীলীগ। তৃণমুল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দলের শৃংখলা নিশ্চিত করতে মুলত এই কঠোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে যচ্ছে ক্ষমতাসীনরা। আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ২০ জুলাই আমাদের সম্পাদক মন্ডলীর সভা আছে। সেই সভায় অভিযুক্ত নেতাদের সাময়িক বহিস্কার ও শোকজ নোটিশ দেয়ার দিনক্ষন নির্ধারণ হবে। সহযোগী সংগঠনের যেসব নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন তাদের দায় সংশ্লিষ্ট সংগঠনের। এসব বিদ্রোহী শাস্তির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সংগঠন তাদের গঠনতন্ত্র মোতাবেক ব্যবস্থা করবে।
তথ্য মতে,শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী সরকারি বসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনিবাহী সংসদের সভায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের সাময়িক বহিস্কার ও শোকজের সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে যেসব মন্ত্রী এমপি ও প্রভাবশালী নেতা কাজ করেছেন তাদের ও কারন দর্শানোর চিঠি পাঠাবে আওয়ামীলীগ। শোকজের জবাব যথার্থ না হলে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে স্থায়ী বহিস্কার হবেন অভিযুক্তরা।
আওয়ামীলীগ সূত্রে জানা যায়, ইতিমধ্যে কয়েকটি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা অভিযুক্তদের খসড়া তালিকা প্রস্তুত করেছেন। শুক্রবার দলের যৌথসভায় এই তালিকা দলীয় সভাপতির কাছে জমাও দিয়েছেন তারা। বাকী বিভাগগুলো তাদের তালিকা আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে চুড়ান্ত করে জমা দেবে।
অপরদিকে,জেলার অন্যতম বিদ্রোহী প্রার্থী চকরিয়ায় আওয়ামীলীগ সহ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী বলেন,যারা দলীয় প্রতীক নিয়ে জনগনের কাছে হেরে গেছে তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করা দরকার।আমরাতো ত্রিমুখি লড়াই করে জিতেছি।সুতরাং দলের উচিত আমাদেরকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া।তিনি আরো বলেন,দলের দুঃসময়ে আমি সাঈদী মাঠে ছিলাম এখনো আছি,তবে আমার আওয়ামীলীগের দরকার না হলেও আওয়ামীলীগের জন্য আমার মতো সাঈদীকে দরকার পড়বে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: