কেন হারলো বাংলাদেশ, ‘ভুতুড়ে ব্যাখ্যা’ তামিমের মুখে

বিশ্বকাপের হতাশা কাটাতে শ্রীলঙ্কা সফরটাকে লক্ষ্য বানিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু হলো হিতে বিপরীত। এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজটা নিজেদের করে নিলো স্বাগতিকরা। এখন তামিমদের সামনে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার আশঙ্কা। শেষ দুই ম্যাচে ব্যাটে-বলে আর ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ যে ছন্নছাড়া পারফর্ম করেছে তাতে শেষ ম্যাচ হারলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না হয়তো। তবে শেষ জয়টা নিজেদের করে সেটি এড়াতেই চাইবে লাল-সবুজের জার্সিধারীরা।
গতকাল প্রেমাদাসায় টসে জিতে ব্যাটিং পেয়েছিল বাংলাদেশ। যে ধরনের উইকেটে খেলা হয়েছে সেখানে ২৭০-২৮০ রানকে মোটামুটি চ্যালেঞ্জিং বলা যায়। কিন্তু ৫০ রানে ৪ উইকেট হারানো একটি দল কতদূরই আর যেতে পারে। মুশফিকের একা লড়াই, শেষ দিকে মিরাজের মারকুটে ব্যাটিং- এই দুইয়েই বাংলাদেশ কাল দুইশো পেরিয়েছিল। তবে ২৩৯ রানের পুঁজি লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের সামনে বড় কোনও চ্যালেঞ্জ ছিল না।
ম্যাচ শেষে পরাজয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অধিনায়ক তামিম ইকবাল বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ টসটি আমরা জিতেছিলাম। আমরা জানতাম এই উইকেটে স্পিন ধরবে। এজন্যই স্পিনার একজন বাড়িয়েছিলাম। টসের সময় বলেছিলাম যে শুরুটা ভালো করতে হবে আমাদের। কিন্তু ৫০ রানে ৪ উইকেট (৬৮ রানে ৪) হারিয়ে কাজ কঠিন হয়েছে। এটি তিনশ রানের উইকেট ছিল না। ২৬০-২৭০ হয়তো ভালো স্কোর হতে পারত। তবে আমরা যেভাবে বোলিং করেছি, তাতে তিনশ রানেও কাজ হতো না।’
তামিম বোলারদের কথা বললেন ঠিকই, দায়টাও দিলেন বোলারদের ওপরই। কিন্তু ব্যাটসম্যানরা, ফিল্ডাররা? বাংলাদেশ দল শেষ কবে উদ্বোধনী জুটিতে অর্ধশত রান করেছিল সেটা স্মরণ করাতে হয়তো ভুলে গেলেন। শেষ ১০ ওয়ানডেতে হাফসেঞ্চুরি নেই অপেনার সৌম্য সরকারের। ব্যাটিংয়ে তামিমের এমন দৈন্যতা নিকট অতীতে কখনও দেখা যায়নি। বারবারই মুখ থুবলে উইকেট বিলিয়ে আসছেন সিনিয়র ক্যাম্পেইনার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। মিঠুন, মোসাদ্দেকরাও আস্থার কণামাত্র প্রতিদান দিতে পারছেন না।
সব মিলে ‍এরইমধ্যে বাংলাদেশের কোচিং স্টাফদের মধ্যে অনেক পরিবর্তন এসে গেছে। ফিল্ডিং কোচকেও হয়তো শোকজ করা হচ্ছে। এবার লঙ্কা সফর শেষে দেশে ফেরার পর টাইগার দলেও ঘষামাজা করে ছাকুনি দেয়া হতে পারে! সেটি হলে অবাক হওয়ার কিছু নেই! একই ভুলের পুনরাবৃত্তি, ব্যর্থতা, পরাজয় আর কত? এবার আঁটসাট বেঁধেই হয়তো দল গোছাতে চাইবে বিসিবি।

Leave a Reply

%d bloggers like this: