খাগড়াছড়িতে পানিবন্দি শতাধিক মানুষ, পাহাড়ধসের আশঙ্কা

তৃতীয় দিনের মতো বৃষ্টি হচ্ছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে। গতরাতে থেমে থেমে বৃষ্টি হলেও বুধবার (১০ জুলাই) সকাল থেকে আবারও শুরু হয়েছে মুষলধারে বৃষ্টি।
টানা বৃষ্টির কারণে খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন উপজেলার শতাধিক গ্রামের হাজার-হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে বেড়েছে পাহাড়ধসের শঙ্কাও।
পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা ৩০ পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠিয়েছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (৯ জুলাই) বিকেল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত খাগড়াছড়ি সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পৌরসভা ও পুলিশের পক্ষ থেকে শালবন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে অনেকটা জোর করে আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, সকালে মাটিরাঙ্গা উপজেলার বেলছড়িতে একটি পরিত্যক্ত দোকানের উপর পাহাড় ধসে পড়ে। তবে এতে কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় খাগড়াছড়ি সদরের চেঙ্গী ও মাইনী নদীর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলা সদরের মুসলিমপাড়া, পেরাছড়া, গঞ্জপাড়া, গোলাবাড়িসহ বেশ কিছু গ্রাম প্লাবিত হয়ে পাচ শতাধিক পরিবার পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। এছাড়া দিঘীনালা, পানছড়ি, রামগড়, মানিকছড়ি, মহালছড়ি উপজেলার নিন্মাঞ্চলের গ্রামগুলোতে পানি উঠেছে।
খাগড়াছড়ি সদরে পানিবন্দি ও পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর জন্য ১২ টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্যোগ মোকাবিলায় ৯ উপজেলার ৪৫ টি আশ্রয় কেন্দ্র ও মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম জানান, খাগড়াছড়ি সদরের পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা ৩০ পরিবারকে বসতবাড়ি থেকে বের করে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদেরকে শালবন এলাকায় খোলা জেলা প্রশাসনের আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। এছাড়া পানিবন্দি পাঁচ শতাধিক পরিবার জেলা সদরের বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে রয়েছে।
এছাড়া ফায়ার সার্ভিস, খাগড়াছড়ি রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট, স্কাউটস, সেনাবাহিনী, পৌরসভা ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের মাঝে ত্রাণ ও বিশুদ্ধ পানীয় বিতরণ করা হচ্ছে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: