গুজব থেকে গণপিটুনির দায় সম্ভবত বিএনপির!

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান : গুজব থেকে গণপিটুনির দায় সম্ভবত বিএনপির! কারণ ব্যাপক জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও বিএনপি কেন গত নির্বাচনে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের ভোট ডাকাতি বন্ধ করতে পারেনি। গত কয়দিন ধরে টেলিভিশনে ইনিয়ে-বিনিয়ে গুজব থেকে গণপিটুনি নিয়ে অনেক বিজ্ঞ আলোচক, বিশেষ করে পুলিশের কর্মকর্তারা অনেক দামি দামি কথা বলছেন। তাদের সবারই প্রায় এক কথা যে, গুজবটি সৃষ্টি হয়েছে পদ্মা সেতু থেকে এবং পুলিশের ভাষ্যমতে এটি নাকি সৃষ্টি করা হয়েছে পদ্মা সেতুর বিরোধীদের পক্ষ থেকে এবং একই পুলিশের ভাষ্যমতে একমাত্র বিএনপিই পদ্মা সেতুর বিপক্ষে। কাজেই পুলিশের মতে, বিষয়টি জলবৎ তরলং! এই গুজব বিএনপিই ছড়াচ্ছে এবং এর দায়দায়িত্ব তাই বিএনপিকেই নিতে হবে! কী সুন্দর অকাঠ্য বক্তব্য যা শুনে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী খুশিতে আটখানা হয়ে যাবেন এবং নিশ্চিন্তে বিদেশে দৃষ্টির চিকিৎসা করাবেন এবং নিশ্চিত থাকবেন তার চেতনার পুলিশ বাহিনী বিএনপিকে সর্ব বিষয়ে দায়ী করে ইঁদুরের গর্তে ঢুকিয়ে রাখবে।
দেশে যা কিছু হবে তার সব দায় পুলিশ বিএনপির কাঁধে চাপিয়ে বিএনপিকে রামধোলাই দেবে আর বোকা চ-ী বিএনপির নেতারা প্রেসক্লাবের ভাড়া করা হলে বা কামরায় বসে হুমকি দেবে… ভালো হবে না কিন্তু… বিএনপি ঘর থেকে বের হলে পালানোর পথ পাবে না কেউ… আমরা কিন্তু ঈদের পরে চূড়ান্ত আন্দোলন শুরু করে দেবো… ইত্যাদি। তারপর এসব বেফজুল বক্তব্য দিয়ে আবার নেতাকর্মীদের কাছে সাগ্রহে জিজ্ঞাসা করে বলবেন, কেমন কড়া বক্তব্য দিলাম, এবার সরকার পালাবে! গুজব ছড়ানোর দায় সরকারের। গণপিটুনির দায়ও সরকারের। বর্তমানে সরকারের প্রায় ১০০ শতাংশ পুলিশ ও সরকারি কর্মচারী সরকারি দলের অনুগত, ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার থেকে শুরু করে ইউপি ও উপজেলা চেয়ারম্যান প্রায় সবাই সরকারি দলের এবং কার উপরে পুলিশের বানানো তাবৎ সংসদ সদস্য সরকারি দলের- সেখানে কি করে গ্রামে-গঞ্জে গুজব ছড়াতে পারে? আবার সেই গুজব ছড়িয়ে প্রকাশ্যে গণপিটুনি দিয়ে মানুষ মেরে ফেলতে পারে?
মানুষ আজকে কেন এতো অধৈর্য হয়ে গেলো যে তারা কারও কথা না শুনে গুজবে কান দিয়ে হিং¯্র হয়ে উঠছে? এর জবাব খুব পরিষ্কার। জনগণ আজকে পুলিশের শাসনে অতিষ্ঠ। জনগণ পুলিশকে বিশ্বাস করে না। পুলিশের উপর জনগণের কোনো আস্থা নেই। তাই গুজব বন্ধ করতে সত্য প্রকাশ করতে হবে। জনগণকে সত্য জানতে দিতে হবে। মিথ্যাকে প্রতিহত করতে হবে। মিথ্যা, জাল, পুলিশের ভোট ডাকাতির সংসদ বাতিল করে জনগণের ভোটে সংসদ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিচার বিভাগের উপর থেকে সরকারের কালো হাত গুটিয়ে আনতে হবে। ফেসবুক থেকে

Leave a Reply

%d bloggers like this: