চট্টগ্রামেও ডেঙ্গুর প্রকোপ: চমেক হাসপাতালে ‘ডেঙ্গু ব্লক’ চালু

রাজধানী ঢাকায় আশঙ্কাজনকহারে ডেঙ্গু রোগ বাড়ার পর এবার চট্টগ্রামেও এর প্রকোপ দেখা দিয়েছে। রবিবার পর্যন্ত সরকারি হিসাবে চট্টগ্রামে ৬১ জন ডেঙ্গু রোগী আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এর মধ্যে রবিবারই নতুন করে আক্রান্ত হয় সাতজন। আক্রান্ত রোগীরা নগরের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করছে বলে জানা যায়।
এদিকে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য তিনটি ব্লক করা হয়েছে। ইতোমধ্যে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধীন ১৩ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ব্লক চালু করা হয়েছে। শিগগির ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ব্লকটি চালু করা হবে।
নতুন ব্লকগুলোতে আক্রান্ত রোগীদের মশারি টাঙিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ এসব মশারি সরবরাহ করেছে।
পাশাপাশি ডেঙ্গুর চিকিৎসার জন্য মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। টিমের সদস্যরা রোস্টার অনুযায়ী চিকিৎসা দিচ্ছেন।
তবে অভিযোগ ওঠেছে, চট্টগ্রামে নেই ডেঙ্গু টেস্ট করার ব্যবস্থা, কোথাও আছে কোথাও নেই’ এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে বিলম্বে শুরু হওয়া ক্র্যাশ প্রোগ্রাম।
লিফলেট বিতরণ ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েই দায়িত্ব শেষ করছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। এমন অবস্থায় নগরবাসী ডেঙ্গু নিয়ে চরম আতঙ্কে আছেন বলে জানা যায়।
চমেক হাসপাতালে চালু হওয়া ডেঙ্গু ব্লকের প্রতি ব্লকে ২০ জন করে রোগী চিকিৎসা নিতে পারবেন বলে জানিয়ে হাসপাতাল উপ-পরিচালক ডা. আখতারুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তিনটি ব্লক চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।ইতোমধ্যে দু’টি ব্লকে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে
চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী বলেন, ‘নগরবাসীকে ডেঙ্গু নিয়ে সতর্ক ও সচেতন করতে লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম চলছে। তাছাড়া ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মাইকিং, সংবাদপত্রে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরে এডিশ মশা ঠেকাতে ক্রাশ প্রোগ্রাম চলছে। এ প্রোগ্রামের আওতায় প্রতিটি ওয়ার্ডের ড্রেনগুলোতে ২৫ হাজার লিটার এডাল্টিসাইড, ১০ হাজার লিটার লার্ভিসাইড ছিটানো হচ্ছে। ১৬১ জন কর্মী এ কাজে নিয়োজিত আছে।’
অভিযোগ আছে চসিক ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালুর কথা বললেও মশক নিধন কার্যক্রম কোথাও আছে কোথাও নেই এমন অবস্থা। কর্মীদের এক ওয়ার্ডে দেখা গেলেও অন্য ওয়ার্ডে দেখা মিলছে না। ওয়ার্ডের মশক নিধন কার্যক্রমের চিত্রে হতাশ নগরবাসী।
দেওয়ান বাজার ওয়ার্ডের ঘাটফরহাদবেগ এলাকার বাসিন্দা শাহেদুল আলম বলেন, ‘শুনছি, সিটি কর্পোরেশন মশক নিধন কর্মসূচি শুরু করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কাউকে দেখা যায়নি।’
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জুলাই মাসের শুরু থেকে তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল আটজন। গত বৃহস্পতি থেকে শনিবার পর্যন্ত তিনদিনে নতুন আক্রান্ত হয় ১৭ জন। বর্তমানে চট্টগ্রামে সরকারি হিসাবে মোট ৬১ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়।
তবে চট্টগ্রাম মহানগরের বাইরেও প্রতিদিন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও চিকিৎসকের ব্যক্তিগত চেম্বারে অনেক ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিলেও তার কোনো তথ্য কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে নেই।
সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, নতুন ৭ জন রোগীর তথ্য পেয়েছি। এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে ৬১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বিনামূল্যে ১৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হবে। এজন্য চিকিৎসা সামগ্রী পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: