চলতি বছরেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হবে: মালয়েশিয়া

‘নিজের বসত ভিটায় ফিরে যাওয়াই রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র সমাধান। এই সংকট সমাধানে মালয়েশিয়া বাংলাদেশকে যথাসাধ্য সহযোগিতা করছে। আশা করছি, চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে যথাযথ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হবে। এই বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা ঠিক করতে আসিয়ান দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে মালয়েশিয়া কাজ করছে।’
ঢাকা সফররত মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন বিন আব্দুল্লাহ রোববার (৭ জুলাই) রাতে গণমাধ্যমকর্মীদের এই তথ্য জানান।
এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ঢাকা সফররত মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন বিন আব্দুল্লাহর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।
বৈঠক শেষে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন বিন আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান চাই। এই সংকট সমাধানের জন্য আমরা আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা এবং তা কিভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়ে কাজ করছি। এই সংকট সমাধানে মালয়েশিয়া বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গারাও ফিরে যেতে চায় কিন্তু ফিরে গেলে যে তাদের ওপর আবার নির্যাতন হবে না, তারা এই বিষয়ে নিশ্চয়তা চায়। তাই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতিতে রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের রাখতে হবে। যাতে তারা নিজেরা উপস্থিত থেকে সবকিছু দেখে নিতে পারে। আমরা বিষয়টি মিয়ানমারকে বলেছি। পাশাপাশি এই সংকট সমাধানে আসিয়ান সদস্যদের নিয়েও কাজ করছি। আশা করছি, এই বছর শেষ হওয়ার আগেই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হবে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘এর আগে জেদ্দায় ওআইসির বৈঠকের সময় রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান নিয়ে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন বিন আব্দুল্লাহর সঙ্গে আমার কথা হয়। আজও একই কথা হলো। মালয়েশিয়া রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আমাদের পক্ষে কাজ করবেন। তারা আসিয়ান সদস্যদের এই সংকটের ভয়াবহতা সম্পর্কে জানাবে।’
প্রসঙ্গত, জাতিসংঘসহ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং কানাডার সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা এরই মধ্যে জানিয়েছে যে প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার কোনো অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেনি। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমার সরকার আন্তরিক নয়।
গত ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন শুরু হলে প্রাণ বাচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ৭ লাখেরও বেশি মানুষ। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের একাধিক শিবিরে মিয়ানমারের নাগরিক ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন এই ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ বলে আখ্যা দিয়েছে। রাখাইন সহিংসতাকে জাতিগত নিধন আখ্যা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও। তুমুল সমালোচনা করছে যুক্তরাজ্য, কানাডা, কুয়েত, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পুরো বিশ্ব।

Leave a Reply

%d bloggers like this: