‘ছাত্রলীগ করি বলে অনেক শিক্ষক নম্বর কম দেন’

ছাত্রলীগ নেতারা শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির কাছে অভিযোগ করে বলেছেন, ‘ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ বিমাতাসুলভ আচরণ করে। তাদের মনোভাব সহযোগিতামূলক নয়। রাজনৈতিক বিবেচনায় কিছু শিক্ষক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ইচ্ছাকৃত নম্বর কম দেন’।
তারা বলেন, ‘ছাত্রলীগ করার কারণে নম্বর কম দেওয়া শিক্ষককে এখনো রাখা হয়েছে পদে। তারা আরও অভিযোগ করেন, পাবলিক ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা স্বায়ত্তশাসনের অপব্যবহার করছেন। বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের নিয়ে চলছেন অনেক উপাচার্য। চাকরিও দেওয়া হচ্ছে ভিন্নমতের প্রার্থীদের।‘
বৃহস্পতিবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
সাম্প্রতিককালে এটাই প্রথম শিক্ষামন্ত্রীর ছাত্র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এমন আয়োজন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৈাধুরী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীসহ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ।
বৈঠকে উপস্থিত ছাত্রলীগ নেতাকর্মাদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান , বৈঠক শুরুর পরই তাদের অনুরোধ জানিয়ে দুই মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক বা দলীয় অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যা নিয়ে এ মতবিনিময়ে আলোচনা করার প্রয়োজন নেই। কেবল শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সমস্যা ও সংকটের কথা শোনা হবে।
সভায় এরপর একে একে প্রায় ২০-২২ জন নেতা বক্তৃতা করেন।
একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, ‘তার বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় বড় পদে আসীন শিক্ষকরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নেতিবাচক চোখে দেখেন। একাধিক বিভাগের শিক্ষকরা ছাত্রলীগে নেতাকর্মীদের ফেল করিয়ে দেন অথবা নম্বর কমিয়ে দেন। এ প্রবণতা রুখতে হবে। ‘
বৈঠকে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন সংকট তীব্র। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সাধারণ ছাত্রদের নিয়ে গাদাগাদি ঠাসাঠাসি করে বসবাস করেন। রুমে পড়াশোনার পরিবেশ নেই। রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানোও দুষ্কর।
এ ছাড়া বিভিন্ন ছাত্রলীগ নেতা তাদের ক্যাম্পাসের আবাসন সংকট, পরিবহন সমস্যা, লাইব্রেরিতে বইয়ের সংকট ও ভৌত অবকাঠামোর অপ্রতুলতার অভিযোগ করেন। শিক্ষক নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য করেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এর প্রেক্ষিতে ডা. দীপু মনি বলেন, যারা আজ বলতে পারেনি, আর যারা বলতে পেরেছে, সবাইকে অনুরোধ করছি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক সমস্যার কথা লিখিতভাবে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জানাতে হবে।
তিনি বলেন, ১৫ দিনের মধ্যে এসব সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষসহ সবার সঙ্গে সভা করে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষকদের দলাদলিতে ছাত্র নেতৃবৃন্দ জড়াবেন না। আন্দোলন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করবেন না। শিক্ষাঙ্গনে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে ছাত্রলীগকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।‘
উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘ছাত্র হিসেবে ছাত্রদের প্রধান কাজ লেখাপড়া করা এবং লেখাপড়া কাজে লাগিয়ে নিজের ক্যারিয়ার ও বাংলাদেশের অগ্রগতিতে অবদান রাখা। প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইন আছে, এই আইনের মধ্যে থেকে সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা সমাধানে কাজ করবে’।
বক্তব্যে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, ‘ছাত্রলীগকে ছাত্রদের দাবি দাওয়া আদায়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে পাশাপাশি শিক্ষকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে হবে’।
গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক সময় তাদের স্বায়ত্তশাসনের অপব্যবহার করে। ছাত্ররাজনীতি যারা করে তাদের অনেক সময় কম নম্বর দেওয়া হয়। যা খুবই দুঃখজনক’।

Leave a Reply

%d bloggers like this: