ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নারীর মৃত্যু, ৫০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে তসলিমা বেগম রেনু (৪০) নামের এক নারীকে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ৪০০ থেকে ৫০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। শনিবার (২০ জুলাই) রাতে বাড্ডা থানায় গণপিটুনিতে নিহত ওই নারীর ভাগ্নে নাসির উদ্দিন এ মামলা করেন।
রবিবার (২১ জুলাই) সকালে বাড্ডা থানার এসআই মাসুদ আলম ব্রেকিংনিউজকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিহতের মরদেহ শনাক্ত করেন তার ভাগিনা ও বোন রেহানা।
তারা জানায়, নিহতের নাম তসলিমা বেগম রেনু। তার ১১ বছরের এক ছেলে ও চার বছর বয়সী এক মেয়ে রয়েছে। আড়াই বছর আগে তসলিম উদ্দিনের সাথে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে ছেলেমেয়েকে নিয়ে মহাখালী ওয়ারলেস এলাকায় একটি বাড়িতে থাকতেন তিনি।
নিহতের ভাগিনা নাসির উদ্দিন ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘রেনু মানসিক রোগে ভুগছিলেন। চার বছর বয়সী মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য তিনি এক স্কুল থেকে আরেক স্কুলে ঘুরছিলেন। এ কারণেই হয়তো তিনি বাড্ডার ওই স্কুলটিতে যান।’
বাড্ডা থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, রেনু তার মেয়েকে ভর্তি করার জন্য স্কুলে যান। কিন্তু মানসিক অসুস্থতার কারণে তার আচরণ অস্বাভাবিক ছিল। এজন্য স্কুলের অনেকেই তাকে ছেলেধরা হিসেবে সন্দেহ করছিল। প্রধান শিক্ষক তার সাথে কথা বলার জন্য রুমে নিয়ে যান। কিন্তু স্কুল প্রাঙ্গণে তার অস্বাভাবিকতা দেখে অনেকেই বের করে মারধর করতে চাইছিলেন। প্রধান শিক্ষক রেনুকে বাইরে বের না করলে, স্কুলের কিছু অভিভাবক ও বাইরে থেকে আসা উৎসুক জনতা রুমের গেট ভেঙে তাকে ছেলেধরা বলে মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢামেকে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রেনুকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, শনিবার বিকেলে পুলিশ সদর দফতর থেকে এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গুজবে কান দিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা রাষ্ট্রবিরোধী কাজের শামিল। এছাড়া গণপিটুনি দিয়ে মানুষ হত্যা ফৌজদারি অপরাধ। এসব থেকে বিরত থাকার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির ঘটনায় পুলিশ সদর দফতর সম্প্রতি জানায়, পদ্মা সেতু নির্মাণে মানুষের মাথা লাগবে- একটি মহল এমন গুজব ছড়ানোর পর দেশের বিভিন্নস্থানে গণপিটুনিতে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি একটি ফৌজদারি অপরাধ। আইন নিজের হাতে তুলেন নেবেন না।
গণপিটুনির ঘটনা তদন্ত করে এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Leave a Reply

%d bloggers like this: