জিম্বাবুয়ের মতো শ্রীলঙ্কাও ‘নিষিদ্ধ’ হবে?

চন্ডিকা হাথুরুসিংহে ইস্যুতে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড ‘সাময়িক নিষিদ্ধ’ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে দেশটির গণমাধ্যম। আইসল্যান্ড ক্রিকেট বলছে, বোর্ডের ওপর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে জিম্বাবুয়ের মতো পরিণতি হতে পারে লঙ্কান ক্রিকেটের।
বিশ্বকাপের পর দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী পুরো কোচিং স্টাফকে বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন। সেই অনুযায়ী, বাংলাদেশ সিরিজই হতে যাচ্ছে হাথুরুসিংহের শেষ অ্যাসাইনমেন্ট।
সম্প্রতি জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ডের সদস্যপদ সাময়িক বাতিল করেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। বোর্ডের পরিচালনা কমিটির ওপর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে আইসিসির এমন সিদ্ধান্ত।
শুধু কোচ ইস্যুতে অবশ্য কোনো দেশকে নিষিদ্ধ করার নজির নেই আইসিসির। কমিটি গঠনে দলীয়করণ কিংবা আর্থিক কেলেঙ্কারি না থাকলে এমন কঠিন সিদ্ধান্ত সাধারণত নেয় না সংস্থাটি।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডে গত কয়েক বছর ধরে রাজনীতির কালো ছায়া পড়ছে। দল গঠন এবং কোচ নিয়োগে সেদেশের ক্রীড়ামন্ত্রী নানাভাবে হস্তক্ষেপ করেন।
আইসল্যান্ড ক্রিকেট জানিয়েছে, হাথুরুসিংহের সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ার ১৭ মাস আগে সম্পর্ক ছিন্ন করায় আইনি ঝামেলায়ও জড়াতে যাচ্ছে বোর্ড। কর্মকর্তারা হাথুরুকে ৬ মাসের পারিশ্রমিক দিতে চাইছেন। কিন্তু তিনি চাইছেন পুরোটা। সেই হিসাবে তার পাওনা দাঁড়ায় সাড়ে ৮ কোটি টাকার মতো!
হাথুরুসিংহের যুক্তিও ফেলে দেওয়ার মতো নয়। বিশ্বকাপে দল খারাপ করার দায় তার চেয়ে বোর্ডের কম নয়। কারণ টুর্নামেন্টে যে দল খেলেছে সেটি তিনি নির্বাচন করেননি।
শ্রীলঙ্কার চাকরি নেওয়ার সময় তাকে বলা হয়েছিল স্কোয়াড নির্বাচনে ভূমিকা রাখতে পারবেন। অথচ গত ডিসেম্বরে তার সেই ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়।
বিশ্বকাপে যাদের খেলাতে চেয়েছিলেন তাদের মধ্যে নিরোশান ডিকভেলা, দিনেশ চান্দিমাল, অকিলা ধনঞ্জয়া, দাশুন শানাকা, লাহিরু কুমারা অন্যতম। এদের তিনি স্কোয়াডে রাখতে পারেননি।
হাথুরুকে এড়িয়ে নির্বাচকেরা এমন পাঁচজন খেলোয়াড়কে নিয়ে ইংল্যান্ডে যান, যারা বিশ্বকাপের আগে ১৮ মাস ওয়ানডেই খেলেননি!
শ্রীলঙ্কার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, হাথুরু নির্বাচক থাকা অবস্থায় দল তুলনামূলক ভালো করেছিল।

Leave a Reply

%d bloggers like this: