টাঙ্গাইলে ছেলেধরা গুজবের শিকার ৩ জন, গ্রেপ্তার ৬

সারাদেশে চলছে ছেলেধরা গুজব। এই সন্দেহে টাঙ্গাইলের ৩ উপজেলায় ৩ জন গণপিটুনি ও হামলার শিকার হয়েছেন। তবে তাদের কাউকেই ছেলেধরার সাথে কোন সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়।
এদিকে গত সোমবার রাতভর অভিযান চালিয়ে কালিহাতীতে ছেলেধরা সন্দেহে মিনু মিয়া (৩০) নামের এক ভ্যান চালককে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- মাইনুল হক, প্রভাত চন্দ্র, শিশির আহম্মেদ খান, আলামিন ইসলাম, মিজানুর রহমান এবং ওমর মিয়া। তাদের বাড়ি কালিহাতী উপজেলায়।
জানা যায়, টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় ছেলেধরা সন্দেহে ১ যুবককে ২১ জুলাই রবিবার গণধোলাই দেওয়া হয় টাঙ্গাইল পৌরসভার শান্তিকুঞ্জ মোড়ে এক যুবককে ছেলেধরা সন্দেহে স্থানীয়রা গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দেন। তাদের দুইজনকেই টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি মীর মোশারফ হোসেন বলেন সে মানসিক প্রতিবন্ধী সে ছেলেধরার সাথে জড়িত নয়।
কালিহাতী উপজেলার সয়াহাটে গত ২১ জুলাই রবিবার মাছ ধরার জাল কিনতে এসে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হন মিনু মিয়া (৩০) নামের এক ভ্যান চালক। তিনি ভূঞাপুর উপজেলার বন্যা কবলিত টেপিবাড়ী গ্রামের মৃত কোরবান আলীর ছেলে। তিনি বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় মিনুর ভাই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ৬ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কালিহাতী থানার ওসি হাসান আল মামুন।
এদিকে কালিহাতীর বলদী গ্রামে ২৩ জুলাই মঙ্গলবার বিকেলে শামীম মিয়া (৪০) নামের ধানকাটার এক শ্রমিককে ছেলেধরা সন্দেহে এলাকাবাসী আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জ সদর থানার কাউয়াকোলা ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে। কালিহাতীর থানার এসআই ওহাব মিয়া বলেন শামীম কানে কম শোনেন। তাকে সেই রাতে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
মঙ্গলবার রাতে ঘাটাইলের পশ্চিম সিংগুরিয়া এলাকার শাহজাহান আলীর ছেলে কাভার্ট ভ্যানচালক সোহরাব আলী বাড়ি ফিরতেছিলেন। এসময় হোমেরা নামক এক মহিলা ছেলেধরা বলে চিৎকার দিলে লোকজন তাকে হামলা করেন। মার থেকে বাঁচতে সোহরাব আলী পাশের পুকুরে লাফ দেন। খবর পেয়ে আমরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করি। তবে স্থানীয়দের ধারণা পরকীয়া সংক্রান্ত কোনো বিষয় এখানে রয়েছে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া বলেন টাঙ্গাইলে যাদের ছেলেধরা সন্দেহ করা হয়েছে তারা সবাই গুজবের শিকার। আমরা টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জনগনকে সচেতন করার জন্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। সেইসাথে গুজব সৃষ্টি ও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন কাউকে সন্দেহ হলে আইন নিজের তুলে না নিয়ে নিকটস্থ পুলিশ স্টেশন কিংবা ৯৯৯ কল করার জন্যে জনগণকে অনুরোধ করছি।

Leave a Reply

%d bloggers like this: