ডেঙ্গুজ্বরে ১ হাজার পুলিশ হাসপাতালে

অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে মশা বাহিত ডেঙ্গু জ্বর। রাজধানীর হাসপাতালগুলো ডেঙ্গু রোগীতে কানায় কানায় পূর্ণ। রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের ব্যারাক, মিরপুরসহ আশপাশের এলাকার পুলিশ সদস্যরা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১০৫৪ জন পুলিশ সদস্য রাজারবাগের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
রবিবার (২৮ জুলাই) রাজারবাগের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মোট ৯৫ জন পুলিশ সদস্য ডেঙ্গুজ্বরে আক্তান্ত হয়ে হাসপাতালে আসে। শনিবার আক্রান্ত পুলিশ সদস্যের সংখ্যা দাঁড়ায় ১০১ জনে।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত মে, জুন এবং জুলাই মাসের ২৭ তারিখ পর্যন্ত মোট ১০৫৪ জন পুলিশ সদস্য ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০০০-২০১৮ সাল পর্যন্ত সারা দেশের ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের সংখ্যা যথাক্রমে ৫৫৫১, ২৪৩০, ৬২৩২, ৪৮৬, ৩৪৩৪, ১০৪৮, ২২০০, ৪৬৬, ১১৫৩, ৪৭৪, ৪০৯, ১৩৫৯, ৬৭১, ১৭৪৯, ৩৭৫, ৩১৬২, ৬০৬০, ২৭৬৯ ও ২০১৯ সালের (২৭ জুলাই পর্যন্ত) ১০ হাজার ৫৪৮ জন।
হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে গিয়ে কোনো বেড খালি দেখা যায়নি। বেডগুলোতে অন্য রোগে আক্রান্ত রোগী থাকলেও ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যাই বেশি।
চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জুলাই মাসের প্রথম দিকে অনেকেই দেরি করে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। কিন্তু বর্তমানে যারা আসছেন তারা জ্বর হওয়ার দু-একদিনের মধ্যেই হাসপাতালে চলে আসছেন। ডেঙ্গু রোগী মোকাবিলায় হাসপাতালটির যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে।
এদিকে রোগীদের প্লাটিলেটের জন্য প্রতিদিনই কয়েকব্যাগ রক্ত লাগছে। এসব রোগীদের আত্মীয়-স্বজন ছাড়াও পুলিশ ব্লাড ব্যাংক থেকে রক্ত দেয়া হচ্ছে।
রাজারবাগের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. মুহাম্মদ মনোয়ার হাসনাত খান বলেন, জুলাই মাসের প্রতিদিনই আউটডোরে অসংখ্য রোগী আউটডোরে চিকিৎসা নিতে আসছেন। তাদের অনেককে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠানো হচ্ছে। শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় যাদের জ্বর একটু বেশি তাদের ভর্তি রাখা হচ্ছে। তবে সচেতনতার কারণে অনেকেই আগেভাগে চিকিৎসা নিতে আসছেন। তাই আল্লাহ্র রহমতে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

Leave a Reply

%d bloggers like this: