ডেঙ্গুতে মানুষ মরলেও দুর্নীতিবাজদের খারাপ লাগে না: হাইকোর্ট

ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশা ধ্বংসে অকার্যকর ওষুধ কেনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
পাশাপাশি মশা ধ্বংসে কার্যকর ওষুধ কেনার বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। ২০ আগস্ট আদালতের এই আদেশের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
ঢাকা মহানগরে মশা নিয়ন্ত্রণে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে এবং এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রতিবেদনের শুনানিতে বুধবার এ আদেশ আসে।
শুনানিকালে আদালত বলেন, ‘ডেঙ্গু ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, মহামারী হতে বেশি বাকি নেই। ডেঙ্গুতে মানুষ মরলেও দুর্নীতিবাজদের খারাপ লাগে না। আগেই যদি সিটি করপোরেশন এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতো তাহলে আজকে এ অবস্থা হতো না।’
ঢাকায় বায়ু ও পরিবেশ দূষণ-সংক্রান্ত একটি রিট আবেদন মামলার শুনানিতে ১৫ মে ডেঙ্গু নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে দুই সিটি করপোরেশনকে মৌখিকভবে নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। এর ধারাবাহিকতায় ২ জুলাই শুনানিতে মশা নির্মূলে দুই সিটি করপোরেশনের ব্যর্থতায় উষ্মা প্রকাশ করে এ নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।
এর ধারাবাহিকতায় বুধবার শুনানি হয়।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। দুই সিটি করপোরেশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী নুরুন্নাহার নূপুর।
শুনানিতে সিটি করপোরেশনের আইনজীবীর উদ্দেশ্যে হাইকোর্ট বলেন, ‘ডেঙ্গু ভয়াভহ আকার ধারণ করেছে, মহামারী হতে বেশি বাকি নেই। মশার ব্যাপারে আমরা আরও আগেই পদক্ষেপ নিতে বলেছিলাম, কিন্তু নেয়া হয়নি।’
আদালত বলেন, ‘ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২১/২২ জন মানুষ মারা গেছেন, কয়েক হাজার মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এরপরও সিটি করপোরেশন বলছে এটি কিছু নয়। মেয়র বললেন কিছুই হয়নি। আপনাদের আচরণ পরিবর্তন করেন।’
আদালত আরও বলেন, ‘মশা নির্মূল করতে যারা নিম্নমানের ওষুধ আনল, এটি তো দুর্নীতি। এ বিষয়ে আগেই ব্যবস্থা নিলে এমন হতো না। যার সন্তান মারা গেছে সেই বোঝে কষ্টটা কী? কিন্তু যারা এ ধরনের ওষুধ সরবরাহ করে, আনে সেই দুর্নীতিবাজদের খারাপ লাগে না। কারণ তারা দেশের বাইরে বাড়ি করে। তাদের ছেলেমেয়েরা দেশের বইরে থাকে।’
আদেশের পরে মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন যে ব্যবস্থা নিচ্ছে সেটা অকার্যকর। যে ওষুধ দেওয়া হচ্ছে, এর কোনো কার্যকারিতা নেই। যারা এগুলো করছে তাদের বিরুদ্ধে সিটি কররপোরেশন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অকার্যকর ওষুধ যারা এনেছেন, সরবরাহ করেছেন এবং এর সঙ্গে যারা জড়িত, এটি একটি দুর্নীতি। সিটি করপোরেশনকে এ দুর্নীতি তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আর কার্যকর ওষুধ এনে তা ছিটানোর ব্যবস্থা করতে হবে বলে আদেশ দিয়েছেন আদালত।

Leave a Reply

%d bloggers like this: