‘তিন তালাকের’ শাস্তি তিন বছরের জেল

তিন তালাক উচ্চারণ করে বিবাহ বিচ্ছেদ করলে তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান করে বিল পাস হয়েছে ভারতে।
বৃহস্পতিবার দেশটির লোকসভায় বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিলটি পাশ হয়। বিলের পক্ষে ৩০৩টি ভোট পরে। আর বিপক্ষে পড়ে ৮২টি।
কংগ্রেস, তৃণমূল, বিজেপির শরিক দল জেডিইউ ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলো বিল পাসের প্রতিবাদে লোকসভা থেকে ওয়াক আউট করেন।
ভারতীয় মুসলিমদের মধ্যে তিন তালাক উচ্চারণ করলে বিয়ে বিচ্ছেদের চল আছে। ৬০ এর দশকে পাকিস্তানে এই পদ্ধতিকে বেআইনি ঘোষণা করে আইন হয়। কিন্তু হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভারতে চলছিল তিন তালাক পদ্ধতিই।
২০১৭ সালের ২২ আগস্ট ভারতের সুপ্রিম কোর্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিদের রায়ে তিন তালাককে ‘অসাংবিধানিক’ রায় দেয়। রায়ে বলা হয়, তিন তালাক প্রথা ইসলাম ধর্মপালনের সঙ্গে জড়িত নয়।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপির শীর্ষ নেতারা তিন তালাক প্রথা তুলে দেওয়ার পক্ষে নানা বক্তব্য দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরেই সব ধর্মের মানুষের জন্য একটি অভিন্ন দেওয়ানী বিধি প্রণয়নের পক্ষে ক্ষমতাসীনরা।
‘তিন তালাক বিল’ সম্পর্কে ভারতের কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, ‘কেউ যদি ভুল করে, রাগের মাথায় তিন তালাক বলে ফেলেন, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে স্ত্রীর সাথে আপস করে নেওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু স্বামী তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকলে স্বামীকে জেলে যেতে হবে। আর তিন তালাকের কারণে ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও ম্যাজিস্ট্রেট নির্ধারণ করবেন।’
রবিশঙ্কর প্রসাদ বিভিন্ন মুসলমান রাষ্ট্রে তিন তালাক বিল নিষিদ্ধের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘২০টি ইসলামিক দেশ পাকিস্তান, আফগানিস্তান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, মিশর ও তিউনেশিয়াতে তিন তালাক নিষিদ্ধ। তাহলে ভারত একটি সেক্যুলার রাষ্ট্র হওয়া স্বত্ত্বেও তিন তালাক কেন নিষিদ্ধ হবে না?’
লোকসভায় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নকতি বিলের পক্ষে বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ যেমন অপরাধ, তিন তালাকও অপরাধ। যদি কেউ অপরাধ করে তাহলে অবশ্যই তাকে জেলে যেতে হবে।’
তিন তালাক বিলের বিরোধিতা করে জেডিইউ এর সাংসদ রাজীব রঞ্জন বলেন, ‘তিন তালাকের মতো অপরাধ ঠেকাতে সামাজিক চেতনা বাড়ানো দরকার। গৃহবধূদের উপর নির্যাতন, পণপ্রথার বিরুদ্ধে আইন করেও এ সব ঠেকানো যায়নি। বরং এর অপব্যবহার হচ্ছে। একই ভাবে তিন তালাক আইনেরও অপব্যবহার হবে।’
তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, মুসলমান পুরুষদের হীন বলে উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে মোদী সরকার তিন তালাককে ফৌজদারি অপরাধের তকমা দিয়ে কারাবাসের ব্যবস্থা করেছে।
কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈয়ের প্রশ্ন, ‘সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কোথায় লেখা রয়েছে যে, তাৎক্ষণিক তিন তালাক বা তালাক-এ-বিদ্দতক ফৌজদারি অপরাধের তকমা দিতে হবে? বিশ্বের ২২টি মুসলিম রাষ্ট্রে তিন তালাক নিষিদ্ধ হলেও তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।’
‘বাংলাদেশে তিন তালাককে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর জন্য এক বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও পার্সিদের ক্ষেত্রে স্বামী তার স্ত্রীকে ছেড়ে গেলেও শাস্তির বিধান নেই। সেখানে দুই বছর পরে স্ত্রী শুধু বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করতে পারেন। তাহলে মুসলিমদের ক্ষেত্রে এমন আইন কেন?’

Leave a Reply

%d bloggers like this: