থাইল্যান্ডের ধানক্ষেতে লুকিয়ে থাকা ২৪ রোহিঙ্গার সন্ধান

থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় শঙ্খলা প্রদেশের বাং ক্লাম জেলার একটি ধানক্ষেতে লুকিয়ে থাকা ২৪ জন রোহিঙ্গার সন্ধান পেয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এসব অবৈধ অভিবাসীরা মালয়েশিয়াগামী যানবাহনের অপেক্ষায় বৃহস্পতিবার রাত থেকে সেখানে লুকিয়ে ছিল। দুই দিন ধরে খাবার ছাড়া লুকিয়ে থাকার পর শনিবার তাদের সন্ধান পায় দেশটির কর্মকর্তারা। দেশটির সংবাদমাধ্যম ব্যাংকক পোস্ট জানিয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইন থেকে আসা এসব রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১৬ জন পুরুষ, সাত নারী ও সাত বছর বয়সী এক মেয়ে শিশু রয়েছে।
ধানের ক্ষেতে লুকিয়ে থাকা ২৪ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে থাই কর্তৃপক্ষ
দীর্ঘদিন রাখাইন রাজ্যে বসবাস করলেও রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করে মিয়ানমার। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইনে রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযান জোরালো করলে জনগোষ্ঠীটির সাত লাখেরও বেশি সদস্য বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। এছাড়াও জনগোষ্ঠীটির অনেক সদস্য নিরাপত্তার আশায় পাচারকারীদের সহায়তায় বিপজ্জনক সমুদ্র পথ পাড়ি দিয়ে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পৌঁছানোর চেষ্টা করে থাকে।
থাইল্যান্ডের উদ্ধারকারী দলের এক সদস্য জানান, এসব রোহিঙ্গাদের বেশিরভাগই ভয় পেয়েছিলেন আর কেউ কেউ কাঁদছিলেন। পাচারকারী দালালেরা তাদের ওই ধানক্ষেতে লুকিয়ে রেখে চলে যাওয়ার পর থেকে খাবারহীন অবস্থায় থেকে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন তারা। অনুসন্ধানে দেখা যায়, তাদের কারও কাছেই পাসপোর্ট বা অন্যকোনও নথিপত্র নেই। থাই কর্মকর্তাদের তারা জানিয়েছেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে থাইল্যান্ডের তাক প্রদেশের মায়ে সোত জেলার সীমান্ত অতিক্রম করে তাদের আনা হয়েছে।
দালালেরা বৃহস্পতিবার রাতে তাদের বাং ক্লাম জেলার ওই ধান ক্ষেতে নিয়ে এসে লুকিয়ে থাকার পরামর্শ দেয়। খাবার, পানি আর আশ্রয়হীন পরিবেশে তাদের রেখে দিয়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার যানবাহন আনার কথা বলে চলে যায় দালালেরা। কর্মকর্তারা এসব রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন ও একটি সিম কার্ড পেয়েছে। দালালদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে এসব মোবাইল ব্যবহার হতো বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা এই ২৪ রোহিঙ্গা পাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়েছে। তাদের বাং ক্লাম পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এক সপ্তাহ আগে শঙ্খলা প্রদেশের সাদাও জেলার একটি রাবার বাগান থেকে মিয়ানমারের অপর ৫৭ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়। তারাও মালয়েশিয়ায় যাওয়ার যানবাহনের অপেক্ষায় ছিল তবে দালালেরা আটক হয়ে গেলে খাবারহীন পরিবেশে আটকে পড়ে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: