প্রফেসর সাহেব কী পরীক্ষা চালালেন, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

দেশের বাজারে পাস্তুরিত দুধের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক সনাক্ত হওয়ার ফলে সৃষ্ট সংকটের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের বিশেষ সভায় মুঠোফোনের মাধ্যমে লন্ডন থেকে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেয়ার সময় এসব কথা বলেন তিনি।
এছাড়া ডেঙ্গু, বন্যা, গুজব প্রতিরোধসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তিনি বিভিন্ন নির্দেশনা দেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি জানি না হঠাৎ করে একজন প্রফেসর সাহেব কী পরীক্ষা চালালেন, আর এই পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে আদালতে রিট হলো। একে একে সব কোম্পানির দুধ উৎপাদন বন্ধ। এর ফলে দুধের ঘাটটিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। আবার যারা খামার করছে তারাই বা কীভাবে জীবনযাপন করবে আর গরুকেই বা কী খাওয়াবে।’
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘গবাদি পশুকে রোগমুক্ত রাখতে অনেক সময় অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো হয়। সেক্ষেত্রে দুধে কিছুটা অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি থাকতে পারে। তবে দুধের যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা থেকে পরিত্রাণ পেতে সরকার কাজ করছে।’
এছাড়াও দেশে উৎপাদিত দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের বিষয়ে আমদানিকারকদের কোনো ধরণের কারসাজি আছে কি না? সে বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রসঙ্গত, ২৫ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সাতটি প্যাকেটজাত (পাস্তুরিত) দুধের নমুনা পরীক্ষা করে সেগুলোতে মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহৃত শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি পাওয়ার কথা জানানোর পর শুরু হয় আলোচনা অধ্যাপক ফারুক। এরপর পরেই প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর তাদের ওই গবেষণা নিয়েই প্রশ্ন তোলে।
অধ্যাপক ফারুকের গবেষণা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর তাদের ওই গবেষণা নিয়েই প্রশ্ন তোলে। এমনকি সরকারি কর্মকর্তা ও দুগ্ধ ব্যবসায়ীরা সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, এই গবেষণা দেশের দুগ্ধ শিল্পের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক।
এরপর আবারো দ্বিতীয় দফা পরীক্ষায়ও বাজার থেকে ১০টি নমুনা নিয়ে সবকটিতেই অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়ার কথা জানান তিনি।
এদিকে আদালতের নির্দেশ অনুসারে বিএসটিআই এর লাইসেন্স পাওয়া পাস্তুরিত দুধের নমুনা পরীক্ষা করে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের ল্যাবরেটরি, জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরি এবং বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট জানায়, এসব নমুনায় সিসা ও অ্যান্টিবায়োটিক সনাক্ত হয়।
এসব প্রতিবেদনের আলোকে গত রবিবার (২৮ জুলাই) হাইকোর্ট ১৪টি কোম্পানির পাস্তুরিত দুধের উৎপাদন, সরবরাহ, ক্রয়-বিক্রয় আগামী পাঁচ সপ্তাহের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। তবে এরই মধ্যে কয়েকটি দুধ বাজারজাত করার ওপর নিষেধাজ্ঞার আদেশ হাইকোর্ট স্থগিত করেছে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: