বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা শনাক্তে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে শুনানি

ভারতের সুপ্রিম কোর্টে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি শনাক্তে আগামী ৯ জুলাই শুনানি হবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের অভিযোগ, রোহিঙ্গাদের সাথে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের যোগাযোগ রয়েছে। অনেক রোহিঙ্গা সদস্য জঙ্গি সংগঠনের যুক্ত হয়েছে। তাছাড়া, বিভিন্ন জঙ্গি কর্মকাণ্ডে তাদের ব্যবহার করা হতে পারে। এ কারণে তারা ভারতের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠছে।
২০১৭ সালে মায়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনীর কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার জের ধরে রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংস হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুকে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়। আগুনে পুড়িয়ে নির্মমভাবেও হত্যা করা হয় অনেককে। পরে জীবন বাঁচাতে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করে। আবার অনেক রোহিঙ্গা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে।
ঐ বছরই অবৈধ প্রবেশকারীদের শনাক্তকরণে দেশটির সুপ্রিম কোর্টে আপিল করা হয়। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গোগেই ও বিচারপতি দিপক গুপ্তার নেতৃত্বাধীন একটি বেঞ্চ অবৈধ অনুপ্রবেশকারী শনাক্তকরণে সম্মতি দেন।
গত বছর রোহিঙ্গাদেরকে ভারত থেকে বিতাড়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে রিট হলে মানবিক দিক বিবেচনায় রিটটি খারিজ করে দেয়া হয়।
বিজেপি নেতা আশ্বিনী উপাধ্যায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্তে সমর্থন দিয়েছিলেন। ভারতে বিশাল সংখ্যক অভিবাসীদের বেশিরভাগই রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারী বলে দাবি করেছিলেন। অনুপ্রবেশকারীদের কারণে ভারতের জনতাত্ত্বিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী শহরগুলোও নিরাপত্তার বিঘ্নিত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল।
গত বছর ৭ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে বাধা নেই বলে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল। ভারতে ৪০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভারতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থায় নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৬ হাজার।

Leave a Reply

%d bloggers like this: