ভেতরে গরু উপরে মানুষ, চলছে নছিমন

প্রায় প্রতিদিন দেশের সড়ক-মহাসড়ক গুলোতে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। এসব দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ গুলোর একটি হলো নছমিন-করিমন ও টেম্পো। এর দুর্ঘটনার মাত্রা এতোই বেশি যে, দেশের উচ্চ আদালত মানবখেকো এই যানটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
কিন্তু, এতো কিছুর পরেও নিষিদ্ধ এই যানটি দিব্যি ছুটে চলেছে মহাসড়ক গুলোতে। যার নজির দেখা গেলো দিনাজপুরের মহাসড়কে। কয়েকটি গরু ভেতরে বাধা আর কিছু মানুষ নছিমনটির নড়বড়ে ছাদের উপর বসে আছে। যা আরো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, সামান্য ভুলে ঘটে যেতে পরে বড় কোনো দুর্ঘটনা।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নছিমনটির ছাদে চড়া এসব লোক গরু ব্যবসায়ী। আসন্ন কোরবানি ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন হাটে এভাবে গরু নিয়ে যাচ্ছেন তারা। দিনাজপুরের মহাসড়কগুলোতে এমন দৃশ্য রোজকার। প্রশাসনের সামনে দিনের পর দিন এভাবে নছিমন-করিমন, টেম্পো দিয়ে চলাচল করলেও প্রশাসন তেমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ সেখানকার সাধারণ মানুষদের।
এ বিষয়ে গরু ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘কোনো উপায় না থাকায় তারা ছাদে চড়েই যেতে বাধ্য হন।’
নছিমনের ছাদে চড়ে গরু নিয়ে দিনাজপুর থেকে আমবাড়ি হাটে যাওয়া মো. আফসার আলী বলেন, ‘আমরা কয়েকজন মিলে একসঙ্গে ব্যবসা করি। পিকআপ ভ্যানে বা ট্রাকে করে গরু নিয়ে গেলে অনেক টাকা খরচ হয়। আবার নছিমনে করে আনলে কম খরচে একটি নছিমনের ভেতরে চার পাঁচটা গরু আনা-নেয়া সম্ভব হয়।’
এভাবে ছাদে চড়ে যাওয়ার বিষয়ে আফসার আলী বলেন, ‘ভেতরে গরু থাকলে বসার কোনো জায়গা থাকে না। তাই আমরা ঝুঁকি নিয়েই নছিমন বা টেম্পোর ছাদে চড়ে বিভিন্ন হাটে যাই।’
এ ঘটনায় প্রশাসন দাবি করছে, অবৈধ নছিমন-করিমনের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান কঠোর আছে। এদের বিরুদ্ধে অভিযানও পরিচালিত হচ্ছে। বিভিন্ন রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ বসিয়ে তাদের ধরা হচ্ছে।
তবে বাস্তব চিত্র ঠিক উল্টো। দিনাজপুর-ফুলবাড়ী, দিনাজপুর-রংপুর এবং দিনাজপুর-পঞ্চগড় মহাসড়কে দিন-রাত সমানতালে চলছে এসব ফিটনেসবিহীন যান।
এ প্রসঙ্গে দিনাজপুর ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর (টি.আই) বারী বলেন, ‘নছিমন, করিম, টেম্পো এসব যানবাহন মহাসড়কে দেখলেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। অনেককে জরিমানাসহ শাস্তিও প্রদান করা হচ্ছে। যারা আইন ভঙ্গ করে মহাসড়কে এসব যানবাহন চালাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী রাস্তায় থাকবে।’

Leave a Reply

%d bloggers like this: