মিয়ানমারের সেনারা নাৎসিদের মতো গণহত্যায় মেতেছে: জাতিসংঘ

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে দেশটির সেনাবাহিনীর জ্বালাও-পোড়াও, হত্যা-ধর্ষণসহ নৃশংসতার মুখে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে নতুন করে ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা সাগর ও সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে এত এত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ভরণ-পোষণ চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। এরইমধ্যে দফায় দফায় দুদেশের মধ্যে আলোচনা হলেও রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
এরইমধ্যে রাখাইনের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বর্তমান পরিস্থিতিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন হিটলারের নাৎসি বাহিনী কর্তৃক দখলকৃত ইউরোপের বন্দিশিবিরগুলোর সঙ্গে তুলনা করলেন মিয়ানমার সংক্রান্ত জাতিসংঘের একটি তদন্ত দলের এক সদস্য। তিনি মিয়ানমারের সেনারা নাৎসিদের মতো রাখাইনে গণহত্যায় মেতেছে বলেও দাবি করেন।
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অপরাধ তদন্তে জাতিসংঘ ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন’ গঠন করে। সেই মিশনেরই সদস্য ক্রিস্টোফার সিদোতি সম্প্রতি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে এক সম্মেলনে দেয়া বক্তৃতায় এমন রাখাইনে অব্যাহত সেনা নিপীড়নকে নাৎসিদের বর্বরতার সঙ্গে তুলনা করেন।
ক্রিস্টোফারের বক্তৃতার উদ্ধৃতি দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানে এ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
সেখানে বলা হয়, ক্রিস্টোফারের দাবি- সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গণহত্যার প্রবণতা বেড়েছে। রাখাইনের মধ্যাঞ্চলে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ১ লাখ ২৮ হাজার রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পগুলো যেন একেকটি কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প।
রাখাইনের পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে ক্রিস্টোফার বলেন, ‘ওই ক্যাম্পগুলোতে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের অবস্থা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসিদের দখলে থাকা ইউরোপে কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে বসবাস করার মতো।’
তিনি আরও বলেন, ‘সেখানে মানবিক বিপর্যয় এতটা নিচে নেমে গেছে যা ভাবাও কঠিন। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর মিয়ানমার সেনাদের বর্বরতা বাড়ছেই। এ সমস্যা সমাধানে এখনই যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।’

Leave a Reply

%d bloggers like this: