যাত্রী ভেবে পুলিশকে প্রাইভেটকারে তুলে ছিনতাই, আটক ৪

যাত্রী ভেবে ডিএমপি পুলিশের এক এসআইকে মাইক্রোবাসে তুলে মালামাল ও টাকা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগে চার ছিনতাইকারীকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
শুক্রবার (২৬ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
শনিবার (২৭ জুলাই) দুপুরে মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মো. মাহবুব আলম।
গ্রেফতার হওয়া ছিনতাইকারীরা হলো- বজলু আলমগীর, মো. মাসুম বিল্লাহ, মো. মুক্তার হোসেন ও আলী। তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত ১টি প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো গ-১৪-৪৫৮৫), ১টি চাকু, লাঠি ও রড উদ্ধার করেছে পুলিশ। এছাড়া তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই করা ১টি টেলিভিশন, ১টি মোবাইল ও পুলিশের পোশাক উদ্ধার করা হয়।
মাহবুব আলম বলেন, গত ১৭ জুলাই ১টি এলজি এলইডি টেলিভিশন, ১টি সিম্ফনি মোবাইল, ২ সেট পুলিশ ইউনিফর্ম ও অন্যান্য পোশাকসহ নগদ হাজার তিনেক টাকা নিয়ে নিজ বাড়ি নেত্রকোনার উদ্দেশে রওনা হন উপ-পরিদর্শক (এসআই) কে এম নূর-ই-আলম। ওইদিন রাত ১টার দিকে মহাখালী আমতলী ফ্লাইওভারের নিচে একটি সিলভার কালারের প্রাইভেটকার তার সামনে এসে দাঁড়ায়। গাড়িটি নেত্রকোনা পর্যন্ত যাবে বলে তাকে জানায় চালক। জনপ্রতি ৩০০ টাকা ভাড়া ঠিক হয়।
তিনি বলেন, নূর-ই-আলম প্রাইভেটকারে ওঠামাত্র পেছনের দুই পাশের দরজা দিয়ে দুজন গাড়িতে ওঠে। তাকে মাঝখানে বসিয়ে হাত-পা, চোখ বেঁধে ফেলে। এরপর তার কাছ থেকে মানিব্যাগ নিয়ে সেখান থেকে এটিএম কার্ড দিয়ে টাকা তুলতে বুথে যায়। তবে অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকায় নূর-ই-আলমকে এলোপাতাড়ি মারধর করে ছিনতাইকারীরা।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, পরে ওই গাড়িটি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করে নূর-ই-আলমের সঙ্গে থাকা টিভি ও টাকা রেখে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রাস্তার পাশে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।
গ্রেফতার ছিনতাইকারীরা ভুক্তভোগী নূর-ই-আলমের চোখে-মুখে কিলঘুষি মারায় তার বাম চোখ রক্তাক্ত হয়ে যায়। এ ঘটনায় বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান মাহবুব আলম।

Leave a Reply

%d bloggers like this: