রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের পাসপোর্ট পায় কীভাবে?

মিয়ানমারের খামখেয়ালির কারণে রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশের জন্য বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেটা নতুন বিষয় নয়। দীর্ঘ মেয়াদে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান না হওয়ায় এই অঞ্চলের হুমকির শঙ্কাও ইতোমধ্যে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। এর মধ্যেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন জানালেন বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে বিভিন্ন দেশে তাদের অবস্থানের কথা।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন: যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে অন্যান্য দেশে অবস্থান করছে, তাদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
রোহিঙ্গারা কীভাবে বাংলাদেশের পাসপোর্ট পাচ্ছে, সেই বিষয়ও স্বীকার করেছেন মন্ত্রী। বলেছেন: দূতাবাসের কিছু অসাধু ব্যক্তি রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট প্রদানে সাহায্য করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার যে এসব অসাধু ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাও জানিয়েছেন। তিনি বলেন: দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্সে রয়েছে। তাই অসাধু কোনো কর্মকর্তাকে ছাড় দেয়া হবে না।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার হয়েছে। আমরা সরকারের এই অবস্থানকে সাধুবাদ জানাই। আমরা মনে করি, রোহিঙ্গারা কোনোভাবেই বাংলাদেশের পাসপোর্ট পেতে পারে না। তথ্য গোপন করে পেলেও স্বাভাবিকভাবেই বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। শ্রমবাজারেও এর প্রভাব পড়ে। তাই এসব অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
তবে দেশের ভেতরেও একটি চক্র টাকার লোভে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দেয়ার মতো অপরাধ করছে। অপরাধ করে সবাই যে পার পেয়ে যাচ্ছে তাও নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এমন অভিযোগে প্রায়ই অনেককে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু এই অপরাধ নির্মূলে এসব পদক্ষেপ খুবই অপ্রতুল। তাই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
এছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে সরকারকে আরও কঠোর অবস্থানে যেতে হবে। কিন্তু দুই দিন আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন: মিয়ানমার রাজি থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরের আগেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হবে। কূটনৈতিক শিষ্টাচারের বিষয় থাকলেও এখানে ‘মিয়ানমার রাজি থাকলে’ শব্দগুচ্ছ যুক্ত হতে পারে না। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে হবে। এজন্য বাংলাদেশকে শক্তিশালী কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।
আমরা মনে করি, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিকতা দেখানোর বিষয়টা বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে গলার কাঁটা হতে পারে না। এই সমস্যা মিয়ানমারের সৃষ্টি, তাই সমাধানও মিয়ানমারকেই করতে হবে। আর মিয়ানমারকে সমস্যা সমাধানে বাধ্য করতে হবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেই।

Leave a Reply

%d bloggers like this: