‘রোহিঙ্গা সংকটে ঢাকার পক্ষে ইতিবাচক সাড়া দেয়নি নয়াদিল্লি’

রোহিঙ্গা সংকটে নয়াদিল্লির কাছ থেকে যেরকম ইতিবাচক সাড়া ঢাকা প্রত্যাশা করেছিল, তেমন সাড়া মেলেনি বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ।
তিনি বলেন, ২০১৭ সালের ২৭ আগস্টের পর থেকে রোহিঙ্গারা নতুন করে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আসা শুরু করে। ওই সময়ে মিয়ানমারের রাজধানী নেপিড’তে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশ ও ভারতের দুই শীর্ষ প্রধান অংশ নেন। ঢাকা আশা করেছিল, রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে নয়াদিল্লি ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে। কিন্তু সেটা হয়নি।
বুধবার (৩১ জুলাই) ‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক: নির্বাচনোত্তর পরিস্থিতি ও কিছু প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। গবেষণা ও পরামর্শকধর্মী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে সেমিনারটি ঢাকার সিরডাপ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাবি ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। বাংলা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী ও আইনজীবী আবু হেনা রাজ্জাকী সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এছাড়া শহীদ পরিবারের সন্তান ডা. নুজহাত চৌধুরী, ভারতের অরিন্দম মুখার্জী, সর্বজিত চক্রবর্তী ও মানষ ঘোষ সেমিনারে আলোচনা করেন।
সেমিনারে অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ৭০-এর দশক থেকে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসছেন। কিন্তু এবারের সঙ্গে আগেরগুলোর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এবার রাখাইনে জেনোসাইড ঘটিয়েছে। ফলে তিন মাসের ব্যবধানে বাংলাদেশের মধ্যে আরও একটি রাষ্ট্র জন্ম নিয়েছে। কেননা, যেখানে ভুটানের জনসংখ্যা ৬ লাখের বেশি, সেখানে ক্সবাজারের শিবিরগুলোতে রয়েছে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ভারতকে এগিয়ে আসা উচিত। তা না হলে এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরি হবে, তার জন্য সবাইকে ভুগতে হবে।
প্রধান অতিথি অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে এই অঞ্চলের রাজনৈতিক চিন্তার মধ্যে সমস্যা আছে। ভারত ও চীন যদি এই সংকটের সমাধান না করে, তবে অদূর ভবিষ্যতে তাদের এর কুফল মোকাবিলা করতে হবে। কেননা আমরা শুনতে পাচ্ছি, আইএস এখন রোহিঙ্গা থেকে কর্মী রিক্রুট করছে, যা খুবই ভয়াবহ।
বাংলা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী আবু হেনা রাজ্জাকী বলেন, ভারতের প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ কেবল রোহিঙ্গাদের নিয়ে এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। আমাদের সরকার আন্তর্জাতিক মহলে রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে খুব জোরালোভাবে চেষ্টা করেও তেমন লাভবান হতে পারছে না। কিন্তু পাশাপাশি সময় থেকে আজ পর্যন্ত রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের বিষয়ে দিল্লি থেকে তেমন কোনো সাড়া পায়নি ঢাকা।
তিনি আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে ভালো সম্পর্ক বিদ্যমান থাকলেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে যখন প্রতিবেশী দেশের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক মহলে তেমন কোনো জোরালো পদক্ষেপ দেখি না, তখন আমরা ব্যথিত হই। আমরা মনে করি, মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে ছায়ার মতো লেগে আছে চীন সরকার। ঠিক তেমনিভাবে আমাদের রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে ভাবতে হবে ভারতকে— এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সেই লক্ষ্যে রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশ একসঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চাপ প্রয়োগের ক্ষেত্রে জোরালো ভূমিকা রাখবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।

Leave a Reply

%d bloggers like this: