রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৩ বিষয়ে জোড় দিতে চায় যুক্তরাজ্য

‘রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তিনটি বিষয়ের ওপর জোড় দিতে হবে- প্রথমটি হচ্ছে, রাখাইন বিষয়ে কফি আনান কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়ন করতে হবে। দ্বিতীয় বিষয়, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব দিতে হবে; যাতে তারা বসতভিটায় ফিরতে পারে। তৃতীয় বিষয় হচ্ছে, রাখাইনে যে অপরাধ ঘটেছে তার জবাবদিহিতা ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’- ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারসন ডিকসন এই মন্তব্য করেছেন।
সোমবার (৮ জুলাই) ঢাকায় কর্মরত কূটনৈতিক প্রতিবেদকদের সংগঠন ডি-ক্যাব আয়োজিত ‘ডি-ক্যাব টক’ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ ইন্সটিটিউজ অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (বিস) মিলনায়তনে ‘ডি-ক্যাব টক’ অনুষ্ঠিত হয়।
যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারসন ডিকসন বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট নিরাপত্তাসহ একাধিক বৈশ্বিক ঝুঁকির সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে এই সংকট শিশুপাচার এবং মানবপাচারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের মানুষদের বাস্তুচ্যুত করায় বিশ্বকে যে ধরনের সমস্যা মোকাবিলা করতে হচ্ছে, রোহিঙ্গা সংকটও একই ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করবে। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই সংকটের সমাধান প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘এই সঙ্কট সমাধানের জন্য মিয়ানমারকে চাপ দিতে যুক্তরাজ্য এরই মধ্যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আহবান জানিয়েছে। গত সপ্তাহে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীন সফর করেন। ওই সফরে চীন রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কাজ করার কথা জানিয়েছে। চীন যদি এই সংকট সমাধানে সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়, তবে সমাধান সহজ হবে।’
‘রোহিঙ্গ সংকট এখন আন্তর্জাতিক ইস্যূ’, উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই সংকট সমাধানে আরও আর্ন্তজাতিক সমর্থন প্রয়োজন। যার মধ্যে আসিয়ান অন্যতম। আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো মিয়ানমারের প্রতিবেশি, কিন্তু বাংলাদেশ নয়। এই সংকট সমাধানে আসিয়ানের সমর্থন নিতে হবে। তবে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং পূর্ণ নাগরিক অধিকার নিয়ে রোহিঙ্গাদের নিজেদের বাসভূমি মিয়ানমারে ফিরে যাওয়াই এই সংকটের সমাধান।’
বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্কে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার বলেন, ‘অর্থনীতিতে বাংলাদেশ ভালো অগ্রগতি করছে। আগামীতে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার যে লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে, সেই লক্ষ্য পূরণে লন্ডন ঢাকার পাশে থেকে সহযোগিতা করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। এ দেশের তৈরি পোশাকখাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বিদেশি বিনিয়োগের প্রচুর ক্ষেত্র রয়েছে, কিন্তু ব্যবসাবান্ধব সহজ পরিবেশ নেই। যা বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে।’

Leave a Reply

%d bloggers like this: