সাতকানিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, আনোয়ারা, পটিয়া, চন্দনাইশ ও বোয়ালখালী উপজেলায়বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। এসব উপজেলার সবকটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সাতকানিয়ার বাজালিয়া মীরেরপাড়া এলাকায় শঙ্খ নদের বাঁধ ভেঙে তীব্র স্রোতে পানি ঢুকে পড়ছে। দ্রুত অবনতি হচ্ছে বন্যা পরিস্থিতির। লোহাগাড়া উপজেলায় টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের গ্রামীণ সড়কের অবস্থা করুণ হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কের দক্ষিণ হাশিমপুর অংশে প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সেখানে ঝুঁকি নিয়ে বড়, বাস ট্রাক চলতে পারলেও ছোট যান চলতে পারছে না। শনিবার(১৩ জুলাই) দুপুরে ওই এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তায় উৎসাহী লোকজন জাল ফেলে মাছ ধরছেন। আটকে থাকা ছোট যান এবং তাদের কারণে যানজট দীর্ঘ হচ্ছে।
এর আগে গত কয়েকদিন ধরে চট্টগ্রাম-বান্দরবান সড়কের সাতকানিয়ার কিছু অংশ পানিতে তলিয়ে গেলে গত কয়েকদিন ধরে বান্দরবানের সাথে অন্যজেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ে।
প্রসঙ্গত, ৬ জুলাই থেকে মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রামে ভারি বর্ষণ শুরু হয়। থেমে থেমে এই বৃষ্টি চলছে শনিবার পর্যন্ত। এরমধ্যে চট্টগ্রামের দক্ষিণ অংশের বিভিন্ন উপজেলার সাথে যুক্ত কর্ণফুলী ও সাঙ্গু নদীতে পাহাড়ি ঢলের পানিও বাড়তে থাকে। এসব নদীর সাথে যুক্ত খালগুলোতেও পানি বেড়ে তলিয়ে যায় বিভিন্ন লোকালয়।
পানি বেড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া। উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের মধ্যে সোনাকানিয়া (আংশিক) ছাড়া বাকি সব ইউনিয়ন পানিতে তলিয়ে গেছে।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম-বান্দরবান সড়কে পানি উঠে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। পৌরসভাতেও পানি। ১৭টি ইউনিয়েনর মধ্যে ১৬টিতে প্রায় দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। সাঙ্গু নদীর পানি বেড়েছে, সঙ্গে যোগ হয়েছে ভারি বৃষ্টি। ইউনিয়নগুলোর বেশিরভাগ অভ্যন্তরীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে।”
দুর্গতদের মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুক্র ও শনিবার প্রায় দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ৪৫ টন চাল ও এক লাখ নগদ টাকা বিতরণ করা হয়েছে বলে ইউএনও মোবারক জানান।
উপকূলীয় উপজেলা বাঁশখালীর তিনশর মতো পরিবার দুর্দশায় বলে জানিয়ে ইউএনও মোমেনা আক্তার বলেন, পুকুরিয়া, শিলকূপ, কালিপুর ও পুঁইছড়ি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টি হচ্ছে, পানি উঠছে, বন্ধ হলে আবার নেমে যাচ্ছে।
অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারে পানিবন্দি মানুষের পরিমাণ কম বলে দাবি করেন তিনি। এখানকার পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরতদেরও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
পটিয়ার ইউএনও হাবিবুল হাসান জানান, উপজেলায় ছনহরা, আশিয়া ও শোভনদণ্ডী ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আড়াইশ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। আরও ২০ মেট্রিক টন চাল দুর্গতদের বিতরণের জন্য মজুদ আছে।”
চন্দনাইশ উপজেলার বৈলতলী এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে শুক্রবার বিকালে পানি উঠে যায়।
দক্ষিণের কর্ণফুলী উপজেলার চরলক্ষ্যা, চরপাথরঘাটা, ঝুলধা এলাকার কিছু এলাকা কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হলেও বড় কোন দুর্যোগ নেই বলে জানিয়ে ইউএনও সৈয়দ শামসুল তাবরিজ বলেন, কিছু ধানি জমি প্লাবিত হলেও সেখানে ধানের চারা রোপন হয়নি।
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জোবায়ের আহমেদ জানান, উপজেলার চারটি ইউনিয়ন রায়পুর, জুঁইদণ্ডী, বারখাইন ও হাইলধর এলাকার লোকজন পানি কবলিত। টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হলেও এখনো সেখানকার লোকজনকে সরিয়ে আনার মতো পরিস্থিতি হয়নি।
বোয়ালখালীর ইউএনও একরামুল সিদ্দিকী জানান, তার এলাকার চরণদ্বীপ ও শ্রীপুর খরণদ্বীপে কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেককেই সাইক্লোন সেন্টারে নিয়ে আসা হয়েছে এবং তাদের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: