সাতকানিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামে কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি

সাতকানিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের কয়েকটি জায়গায় বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। জেগে উঠছে তলিয়ে যাওয়া বিভিন্ন কাঁচা-পাকা সড়ক। পানি কমে যাওয়ায় চোখে পড়ছে বন্যার ক্ষতচিহ্ন। নষ্ট হয়ে গেছে প্রায় সব উপজেলার অধিকাংশ সড়ক। তবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা।
এদিকে, পানি কমতে থাকায় বন্যা দুর্গতরা নিজের বাড়িতে ফিরছে। তবে, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে রান্না করা খাবার ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল বলে জানিয়েছে বানভাসি মানুষ।
অন্যদিকে, কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের সব জায়গা থেকে পানি নেমে যাওয়ায় আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে বান্দরবানের সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ দীর্ঘদিন পর চালু হয়েছে।
চন্দনাইশের হাশিমপুর কাঁচরাপাড়া এলাকায় বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় গতকাল সোমবার বিকেল থেকেই যান চলাচল শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, গত ৮ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ভারি বর্ষণে সাতকানিয়ার কেওচিয়া, ঢেমশা, পশ্চিম ঢেমশা, বাজালিয়া, পুরানগড়, ধর্মপুর, কালিয়াইশ, খাগরিয়া, নলুয়া, আমিলাইশ, এওচিয়া, চরতী, সাতকানিয়া পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়।
পানি উঠে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদ, সাতকানিয়া আদালত, সাতকানিয়া থানা, সাতকানিয়া সরকারি কলেজ, সাতকানিয়া আদর্শ মহিলা কলেজ, জাফর আহমদ চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ, বাজালিয়া অলি আহমদ বীরবিক্রম ডিগ্রি কলেজসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি কার্যালয়।
ডুবে যায় উপজেলার সবচেয়ে উঁচু এলাকা হিসেবে পরিচিত কেরানীহাটও। একইভাবে চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, আনোয়ারা ও পটিয়া উপজেলাও বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবারক হোসেন জানান, সাতকানিয়ার বানভাসি মানুষের জন্য বন্যাকবলিত সবকটি ইউনিয়নে ত্রাণ হিসেবে চাল, শুকনো ও রান্না করা খাবার ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। আমরা আরো সাহায্য চেয়েছি। সব মিলিয়ে ৯৫ টন চাল, সাড়ে চার হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা, খাবার স্যালাইন ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়। আগামীতে আরো ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: